প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভারতীয় চোরাইপণ্য আটককে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষের একটি ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বিকেলে সুলতানপুর ৬০ বিজিবির অধীন সালদা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. মাসুদ বাদী হয়ে কসবা থানায় এই মামলা করেন।
মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, বায়েক ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি স্বপন মিয়া এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন মিয়াসহ মোট ১৫ জন।
এজাহার থেকে জানা যায়, ৩ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি অভিযানে গিয়ে উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুর এলাকায় ভারতীয় চোরাইপণ্য বহনকারী একটি পিকআপ আটক করে।
পিকআপটিতে বাসমতি চালসহ অনেক চোরাইপণ্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক করে জব্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে বিজিবির সদস্যদের কাজে বাধা প্রদান করে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
এদিকে, মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে যে, এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠি, রড, দা এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বিজিবি সদস্যদের ওপর।
ফলে, বিজিবির কয়েকজন সদস্য আহত হয়। আহতদের মধ্যে দিদার হোসেন, ফেরদৌস, তারেক এবং মোস্তাফিজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে না পেরে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহতদের উদ্ধার করে সুলতানপুর বর্ডার গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তদের পরিচয় যাচাই করতে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগায় মামলার দায়ের প্রক্রিয়াতে বিলম্ব হয়েছে।
মামলার বাদী সালদা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. মাসুদ বলেন, ঘটনার পর অনুসন্ধান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা নামগুলো প্রাথমিকভাবে চোরাকারবারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নূরুল আমিন জানিয়েছেন, নয়নপুর এলাকায় ভারতীয় চোরাইপণ্য আটককে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, মামলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান।
তিনি বলেছেন, প্রকৃত ঘটনায় জড়িত অনেককে বাদ দিয়ে তাঁদের দলের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
তিনি জানান, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন