প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্তমানে মস্কো সফরে রয়েছেন তার কূটনৈতিক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। পরবর্তীতে তাদের কিয়েভ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকার পর এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তার এই দূতরা উভয় রাজধানীতে ‘যুদ্ধ সমাপ্তির প্রস্তাব’ নিয়ে গেছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর আগে বলেছেন যে ট্রাম্পের দূতরা সবসময় স্বাগত অতিথি এবং তাদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে রাশিয়া সন্তুষ্ট। তবে এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ওয়াশিংটন যদি সরাসরি মস্কোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালায়, তবে ইউরোপের ভূমিকা পাশ কাটানো হতে পারে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্য করেছেন, যে কোনো স্থায়ী মীমাংসার আলোচনা চলাকালীন ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় ও আমেরিকানদেরও টেবিলে উপস্থিত থাকা উচিত। এর আগে আবুধাবি ও জেনেভায় তিন দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ভূখণ্ডগত বিভিন্ন বিষয়ে মূল মতপার্থক্য রয়ে যাওয়ায় তখন কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি অর্জিত হয়নি।
ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন সংক্রান্ত অভিযোগ এবং পাল্টা উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি জার্মানি লিপজিগ/হ্যাল বিমানবন্দর এলাকায় একটি ড্রোন আটক করার ঘটনায় রাশিয়ার হাত থাকার অভিযোগ তুলেছে, যা মস্কো সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে দিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন যে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে এমন আগ্রাসী রাশিয়ার ভুয়া জুজু তৈরি করছেন।
এদিকে, ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার আকাশসীমায় চলাচলকারী সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে রাশিয়ার আকাশে নিরাপদ দিন শেষ হয়ে গেছে। কিয়েভের এই বক্তব্যকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং রুশ বিশেষজ্ঞরা একে রাশিয়ার নিয়মিত ও কঠোর হামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়া ইউক্রেনের একটি মরিয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি কিয়েভের একটি আবাসিক এলাকায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এসবিইউ এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এইচইউআর-এর এজেন্টদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মিলারা গ্রামে রুশ হামলায় একটি গোলাবারুদ গুদাম ধ্বংস হওয়ার পর সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে ৩৮ জন নিহত এবং দুই শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
ইউক্রেনের ড্রোনগুলো রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় লাগাতার হামলা চালানোর কারণে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এসব হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি নরওয়ে কর্তৃপক্ষ ক্রিমিয়ায় কথিত সম্পদহানির অভিযোগে রুশ গবেষণা জাহাজ ‘প্রফেসর মোলচানভ’ আটক করেছে, যাকে মস্কো ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া জোরালো হচ্ছে। কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বৈশ্বিক নেতারা একত্রিত হয়ে বহুমেরু বিশ্ব ব্যবস্থার আত্মপ্রকাশকে ‘অপরিবর্তনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা নতুন করে যুদ্ধাপরাধের বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অন্যদিকে সাবেক মার্কিন বিচারক অ্যান্ড্রু নাপোলিটানো এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনে ব্যবহৃত অস্ত্র উৎপাদনকারী ন্যাটোর কারখানাগুলোতে আঘাত হানার পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনগত অধিকার রাশিয়ার রয়েছে, তবুও সরাসরি বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অত্যন্ত নজিরবিহীন ‘সাধুর মতো ধৈর্য ও সংযম’ প্রদর্শন করে চলেছেন।
সূত্র: আরটি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন