প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং জায়ান্ট কসকোর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ করেছে। শিপিং কোম্পানিটি বিভিন্ন দেশের উপকূলবর্তী সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য জাহাজে লুকানো উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহার করছিল।
-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রীয় শিপিং কোম্পানিটি দীর্ঘ সময় ধরে বেইজিংয়ের সাথে গোপন তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এই কার্যক্রমের আওতায় তারা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়াজুড়ে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজ এবং বিমানের যোগাযোগ সংকেত গোপনে সংগ্রহ করে।
এক কর্মকর্তার মতে, কসকোর জাহাজগুলোতে বসানো অত্যাধুনিক সরঞ্জামের মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের সামরিক যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং এনক্রিপশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও গোয়েন্দা সংকেত বেইজিংয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, এই গোপন কার্যক্রমের মাধ্যমে বেইজিং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুট ও সমুদ্রসীমার ওপর নজরদারি করতে সক্ষম হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামরিক যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
কসকোর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি; তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে।
চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা নেতা শি চিনপিংয়ের একটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসকোর জাহাজগুলো ঠিক কী ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে, সে সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেননি।
তবে তারা জানিয়েছেন, এগুলো সাধারণ যোগাযোগের যন্ত্রাংশ নয়, বরং অত্যন্ত উন্নতমানের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম। কর্মকর্তারা আরও জানান, বেইজিং এই সংগৃহীত তথ্য বিভিন্ন আঞ্চলিক জলসীমার বিরোধে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে, সমুদ্রের ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং বিদেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা পেতে ব্যবহার করে।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীন সরকার কখনো কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তিকে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করে অন্য দেশ থেকে তথ্য বা গোয়েন্দা সংকেত সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয় না।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেন, ‘আমরা তথাকথিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মতো ভিত্তিহীন গল্প ছড়িয়ে চীনকে বদনাম করার এই প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করছি।’
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন কসকোকে চীনা সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
এর ফলে কোম্পানির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং মার্কিন সরকারের সাথে ব্যবসা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
চীনের আইন অনুযায়ী সব সংস্থাকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা কাজে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবুও, কসকো এখনো মার্কিন বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলোর একটি। মার্কিন বন্দরগুলোতে কন্টেইনার সেবায় বেশ কয়েকটি যৌথ ব্যবসাও রয়েছে কোম্পানিটির।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ঝিমিয়ে পড়া জাহাজ নির্মাণ এবং সামুদ্রিক শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে কসকোসহ চীনা শিপিং কোম্পানিগুলোর ওপর শত কোটি ডলারের বন্দর ফি বা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছিল।
তবে গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের মধ্যে এক বছরের জন্য বাণিজ্য যুদ্ধ স্থগিতের চুক্তি হওয়ার পর সেই পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে থামানো হয়। এই চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দুই নেতার আসন্ন বৈঠকে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন