প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ পেলেন দীঘিনালার ৩৬ তরুণ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে তিন সপ্তাহব্যাপী মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সনদপত্র।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দীঘিনালা সরকারি পলিটেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয়। জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ৩৬ শিক্ষার্থী মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে হাতে-কলমে বিভিন্ন কাজ শেখার সুযোগ পান। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা অর্জন করায় প্রশিক্ষণ শেষে নিজেদের কর্মজীবনে এসব জ্ঞান কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করছেন তারা।
সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা সরকারি পলিটেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কারিগরি শিক্ষক মো. রুবেল আহমেদ, দীঘিনালা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম, সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ারসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয় বলেন, তরুণদের শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য নয়, তাদের এমন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন। একজন দক্ষ তরুণ নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। তাই এ ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশিক্ষণের আগে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজ সম্পর্কে তাদের অনেকেরই তাত্ত্বিক ধারণা থাকলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে কাজ শেখার ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এখন অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেরাই আয়ের পথ তৈরি করতে চান তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ি জনপদে বেকার তরুণদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেলে তরুণরা চাকরিনির্ভরতার বাইরে গিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন বেকারত্ব কমাতে সহায়ক, অন্যদিকে তাদের উৎপাদনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন