প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের নিকটবর্তী ওভেরবিলিয়ে শহরে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে নাহিল (২) নামের এক বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় সাতজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেইন-সাঁ-দনি (৯৩) ডিপার্টমেন্টের ওভেরবিলিয়ে শহরের রু পল-ভেরলেন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত নাহিল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামের বাসিন্দা রাসেলের সন্তান। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণে গুরুতর আহত নাহিলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
বিস্ফোরণের শব্দ ও ধাক্কায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল। ধসে পড়া অংশের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে প্রায় ১১০ জন দমকলকর্মী অংশগ্রহণ করেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দলও মোতায়েন করা হয়।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লো মোঁদ, লো প্যারিজিয়াঁ ও এএফপির প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিককে বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে গ্যাসের উৎস বা কী কারণে তা জমে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বিস্ফোরণে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করে ওভেরবিলিয়ে শহরের মেয়র সোফিয়েন কারুমি জানান, ঘটনায় একজন শিশু নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় মেয়র এ তথ্য জানান। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দমকলকর্মী, পুলিশ সদস্য ও সামু (SAMU)-এর জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বিস্ফোরণের ফলে বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্তদের সাময়িকভাবে রাখার জন্য পৌরসভার একটি কক্ষ ও অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে একটি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে বিচারিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ববিনি প্রসিকিউটরের অধীনে তদন্তকারীরা গ্যাস লিকের উৎস ও বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন