প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নিরঞ্জন ধর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল ও টাকা দাবি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিরঞ্জন ধরকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শামীম মিয়া, যিনি ৩৮ বছর বয়সী, গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ী এলাকার স্লুইসগেটের পানিতে একটি ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নিরঞ্জন ধরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তবে মরদেহের প্যান্টের পকেটে থাকা একটি টোকেনের মাধ্যমে পরিচয় জানা যায়। নিহত নিরঞ্জন ধর নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় স্ত্রী ও সন্তানসহ বসবাস করতেন এবং তিনি একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন। তাঁর চারটি অটোরিকশাও ছিল।
অটোরিকশাগুলো খাগডহর এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হতো, যেখানে শামীম ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। এই সূত্রে নিরঞ্জনের সঙ্গে শামীমের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শামীমের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেছিলেন নিরঞ্জন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে শামীমের কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল এবং বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এভাবে ধাপে ধাপে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও পিবিআই জানিয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন নিরঞ্জন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে বঁটি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে। এতে নিরঞ্জনের মৃত্যু ঘটে। হত্যার পর মরদেহ একটি চটের বস্তায় ভরে বড় নীল রঙের চালের ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। পরে একটি ইজিবাইকে করে ড্রামটি বেগুনবাড়ী স্লুইসগেটে নিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ড বাজারের বটতলা এলাকার একটি মার্কেট থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর শামীম বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ময়মনসিংহ নগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বঁটি উদ্ধার করা হয়। পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন