প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সাইবার হামলা চালাচ্ছে একটি হ্যাকারগোষ্ঠী। ভারতের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সার্ট-ইন) এ ধরনের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ক্র্যাফটি ফ্যালকন’ নামে পরিচিত হ্যাকার গোষ্ঠীটি ভারতের ব্যাংক, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি), ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক কোম্পানি, পেমেন্ট সেবাদাতা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা দূর না করা হলে একই প্রতিষ্ঠানে বারবার হামলার ঝুঁকি বিদ্যমান বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা এআই-চালিত বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশনের দুর্বলতা চিহ্নিত করছে। এ কাজে আরটেক্স, পেন্টএজিআই, কেইর্ন ও সাইবারস্ট্রাইকএআইয়ের মতো টুল ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। একইসাথে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) বিভিন্ন ক্লাউড সেবাও হামলার উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হচ্ছে।
হামলার একটি কৌশল হিসেবে প্রথমে অল্প অঙ্কের অর্থ লেনদেন করে আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে হ্যাকাররা মাত্র ১ রুপির লেনদেনের মাধ্যমে পরীক্ষা চালায়। এরপর তারা সুযোগ বুঝে বড় অঙ্কের অননুমোদিত লেনদেনের চেষ্টা করতে পারে।
এছাড়া মার্চেন্ট সেটেলমেন্ট এপিআই, ডিজিটাল ওয়ালেটের নিরাপত্তা চাবি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কও তাদের লক্ষ্য হতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে মূল কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থায় প্রবেশের ক্ষেত্রে একই পরিচয়পত্র, টোকেন বা নেটওয়ার্ক ব্যবহারের দুর্বলতা কাজে লাগানোর ঝুঁকি রয়েছে।
সার্ট-ইন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, অল্প অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত এবং নতুন সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে এআই টুল ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব হলো, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে আগে থেকেই প্রবেশ করে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও মাথায় রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন