প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটসহ (ইআরএল-২) বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে। গত সাত মাসে এই অর্থ জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা বিপিসির কার্যপত্রে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসের মধ্যে জ্বালানি তেল বিক্রির ফলে বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দুই মাসের তেলের মূল্যের সমপরিমাণ ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির কারণে সংস্থাটির চলতি মূলধন হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে তেল আমদানিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী রাখা অর্থ বিপিসির। প্রকল্পগুলোর জন্য চলতি ও আগামী অর্থবছরে প্রয়োজনীয় অর্থের ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। নতুন করে অর্থ নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখা বিপিসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রকল্পের প্রয়োজনের সময় অর্থের ব্যবস্থা করা হবে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলার। মার্চে এটি বেড়ে ১৮৬ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। এপ্রিলে সর্বোচ্চ ২৮৪ দশমিক ৯৫ ডলারে ওঠে। সেপ্টেম্বরে কার্যপত্র তৈরির সময় গড় দাম ছিল ১৬৫ দশমিক ৮২ ডলার।
বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, দেশের ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ ডিজেল। কার্যপত্র তৈরির সময় আন্তর্জাতিক বাজারদর ও ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলের ব্যয় ছিল প্রায় ২০৫ টাকা। অথচ দেশে তখন তা বিক্রি হচ্ছিল ১১৫ টাকায়।
২০২৪ সালের মার্চে দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু হবে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করা হলেও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পেলেও প্রায় পাঁচ মাস দেশে দাম বাড়ানো হয়নি।
১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। ১ জুন কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম যথাক্রমে ১৩৫, ১৪৫ ও ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়।
বিপিসি জানিয়েছে, লোকসান কমানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমাতেও দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বর্তমানে বিপিসি এবং এর আওতাধীন ৬৪টি ডিপো ও স্থাপনায় ১৬ লাখ ২৭৩ টন জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে। এতে পণ্যভেদে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, মজুদ সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রস্তুতির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে দিতে বিপিসিকে সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে জনগণের জন্য জ্বালানির দাম সহনীয় রাখতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরিরও সুপারিশ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন