প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে পরপর দুটি ঝড়, হারিকেন সাইমন ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র্যাচেল, আঘাত হেনেছে। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বহু বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।
আজ মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইমনের আঘাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়েরেরো রাজ্যের রাজধানী চিলপানসিঙ্গোতে দেয়াল ধসে ৭১ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রাজ্যটির গভর্নর এভলিন সালগাদো এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ঝড়ের কারণে রাজ্যের উপকূলীয় শহরগুলোতে অবকাঠামো ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর আকাপুলকোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র্যাচেলের কারণে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের এনসেনাদা শহরের উপকণ্ঠে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে বলে রাজ্যটির প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে।
এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টারের সাহায্যে ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে। রাজ্যটির গভর্নর মারিনা দেল পিলার জানিয়েছেন, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাইমন মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানেনি। পাঁচ ধাপের সাফির-সিম্পসন স্কেলে শক্তি কমে দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে নেমে আসার পর ঝড়টি উপকূল থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। তবে বৃষ্টির সতর্কতা এখনও বহাল রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিভিত্তিক ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পশ্চিম-মধ্য মেক্সিকোতে সাইমনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে যে, উপকূলের কিছু এলাকায় পাঁচ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে মিচোয়াকান ও কোলিমা রাজ্যের নদী ও জলধারার কাছের জনপদগুলোতে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে।
এল নিনোর প্রভাব
প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এল নিনো পরিস্থিতি এ মৌসুমে ওই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হবে, এমন দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও এল নিনোর তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন