প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে এক বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে, ওই নেতাকে চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন মোহাম্মদপুর থানাধীন ৩৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হোসেন শাহীন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ঘটলে পুলিশ অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এই সুযোগে মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাংরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা বিভিন্ন মহল্লা পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
এই কাজে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণের জন্য মাইকিং করা হয়। কিন্তু এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চাঁদ উদ্যানের ২ নম্বর রোডের শাপলা ভবনের নিচতলায় বাড়ি মালিক কল্যাণ সমিতির অফিসে আমার ওপর হামলা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৪২টি কোপ দেওয়া হয়। কেটে ফেলা হয় হাত ও পায়ের রগ। ৩৭ দিন আইসিইউতে ছিলাম। সব মিলিয়ে ৭ মাস হাসপাতালে কাটিয়ে বাসায় ফিরি। যদিও ঠিকমতো হাঁটতে পারি না, তবে রাজনীতির প্রতি অদম্য ভালোবাসা থেকে আবার রাজনীতির মাঠে নামি।’
অভিযোগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিই। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোর গ্যাং ও কুচক্রী মহল আবার আমাকে হত্যার পায়তারা করছে।
কারণ তারা জানে, আমি কাউন্সিলর হলে তাদের চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য আর থাকবে না।’
বিএনপি নেতা শাহিন বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি থাকলে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের যেখানেই আমি চাঁদা নেওয়ার খবর পাই সেখানে গিয়ে প্রতিহত করি।’
তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাঁদ উদ্যানে ৬ নম্বর রোডে সুয়ারেজ লাইনের কাজ করাতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে শুনে ছুটে যাই। চাঁদা দাবিকারীদের মধ্যে মো. নান্নু, নুরুল ইসলাম, হান্নান ও সেন্টুসহ ১৫-২০ জন ছিল। চাঁদার বিরোধিতা করায় তারা আমার ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। তখন আমার সঙ্গে থাকা জিসান আহমেদ হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ডান হাতে গুরুতর আঘাত পায়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ওই চাঁদাবাজ চক্র আমাকেই চাঁদাবাজ বলে উপস্থাপন করছে এবং একই সঙ্গে আমাকে কাউন্সিলর প্রার্থী হলে পরিবারসহ মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।’
এ বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই কুচক্রী মহলের হুমকিতে আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কিত। একবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছি। এখন আবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। এ অবস্থায় আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন