প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : লাটভিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের রোববার প্রকাশিত আংশিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গসের মধ্য-ডানপন্থী দল এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফল দেশটির ইউরোপপন্থী ও ইউক্রেনপন্থী নীতির অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
তবে, প্রতিবেশী রাশিয়ার হুমকি এবং দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে জনতুষ্টিবাদী দলগুলোও নির্বাচনী প্রচারে ভালো ফল করেছে।
রিগা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানায়।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ভোট গণনার অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হওয়ার পর কুলবার্গসের মধ্য-ডানপন্থী দল ইউনাইটেড লিস্ট ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
কুলবার্গস সাংবাদিকদের বলেন, “এখনো শেষ হয়নি। তবে ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো।”
তিনি আরও বলেন, “এর অর্থ হলো মানুষ সত্যিই পরিবর্তন চায়।” তার মতে, এর অর্থ হলো “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি” এবং “লাটভিয়ার শিশুদের জন্য একটি ভবিষ্যৎ।”
কুলবার্গস গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া তার জোটের বর্তমান কাঠামোয় টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।
জোটের অন্যতম শরিক ইউনিয়ন অব গ্রিনস অ্যান্ড ফার্মার্স পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমার কাছাকাছি রয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রকাশিত আংশিক ফলে দলটি ৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
জোটের অন্য শরিক দলগুলোর সম্ভাব্য ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কুলবার্গসকে নতুন করে সরকার গঠন করতে হবে।
কুলবার্গসের দল এগিয়ে রয়েছে—এমন ইঙ্গিত দেওয়া বুথফেরত জরিপ সাধারণত নির্ভরযোগ্য। তবে আরও কট্টরপন্থী দলকে সমর্থনের কথা ভোটাররা প্রকাশ্যে বলতে অনাগ্রহী হওয়ায় জনতুষ্টিবাদী দলগুলো প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করতে পারে।
লাটভিয়ার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান লাসের-এর বিশ্লেষক রবার্টস কিটস এএফপিকে বলেন, “বুথফেরত জরিপের তুলনায় প্রকৃত ফলাফলে সবচেয়ে বড় ব্যবধান হবে রুশভাষী ভোটারদের সমর্থন পাওয়া দলগুলোর ক্ষেত্রে। এগুলো হলো সার্বভৌম শক্তি ও লাটভিয়া ফার্স্ট।”
লাটভিয়ার ট্রান্সআটলান্টিক অ্যাসোসিয়েশন লাটো-এর মহাসচিব সিগিতা স্ট্রুবার্গা বলেন, ভবিষ্যৎ জোটের কাঠামো এখনই নির্ভুলভাবে অনুমান করার সময় হয়নি।
তিনি এএফপিকে বলেন, “আমাদের প্রকৃত শতাংশের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই মুহূর্তে আমরা যে ফল দেখছি, তা থেকে সেটি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।”
জনতুষ্টিবাদী দলগুলোর উত্থান-
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য এবং উভয় জোটের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত লাটভিয়ায় নির্বাচনী প্রচারে নিরাপত্তা ইস্যুই ছিল প্রধান বিষয়।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয় সামনে এনে জনতুষ্টিবাদী দলগুলোও জনসমর্থন বাড়িয়েছে।
আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিরোধীদের রুশপন্থী বলে সমালোচিত সার্বভৌম শক্তি ১১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
দলটি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানোর বিরোধিতা করেছে। এর পরিবর্তে তারা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার ওপর জোর দিয়েছে।
ভালো ফল করলেও দলটির সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বেশিরভাগই তাদের সঙ্গে কাজ না করার কথা জানিয়েছে।
আরেক জনতুষ্টিবাদী দল লাটভিয়া ফার্স্ট আংশিক ফলে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে। ব্যবসায়ী আইনরস স্লেসেরসের নেতৃত্বাধীন দলটি তুলনামূলকভাবে জোটের সম্ভাব্য অংশীদার হতে পারে।
ইউরোপপন্থী সামাজিক গণতান্ত্রিক দল দ্য প্রগ্রেসিভস সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে। আংশিক ফলাফলে দলটি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চম হয়েছে।
ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি-
রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর চার বছর পরও লাটভিয়ার রাজনৈতিক বিতর্কে নিরাপত্তা ইস্যুই প্রধান হয়ে আছে।
২০০৪ সাল থেকে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য লাটভিয়া রাশিয়াকে তার প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। এ কারণে দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
২০২২ সালে মস্কো ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকে লাটভিয়া প্রতিরক্ষা ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করছে।
পার্লামেন্টে প্রবেশের সম্ভাবনা থাকা অধিকাংশ দলই উচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যয় বজায় রাখা এবং কিয়েভকে সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়গুলোও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে।
লাটভিয়ার বড় রুশভাষী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটের ধরনও বদলাচ্ছে।
একসময় পার্লামেন্টে ২০২২ সালে প্রতিনিধিত্ব হারানো হারমনি দলের পেছনে এই ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন ছিল। এখন তাদের অনেকেই শুধু পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দিচ্ছেন।
রোববার প্রাথমিক সরকারি ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপরই সরকার গঠনে জোটের আলোচনা শুরু হবে। এসব আলোচনা দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন