প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, সার ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি ঘটলে ডিলারশিপ বাতিল করা হবে এবং যদি কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি সোমবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন রবি মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
সভায় কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে দেশের সব জেলার জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
মন্ত্রী সার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার উপর কড়া নজরদারির কথা উল্লেখ করে বলেন, সার বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কৃষক হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একইসাথে, সার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন ডিলারদের লাইসেন্স দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ডিলারশিপ এলাকার সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা উচিত। জমির পরিমাণ, কৃষকের সংখ্যা ও ফসলের নিবিড়তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিয়ম লঙ্ঘনকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ডিলারের দোকানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা ও মজুতের তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দাম আদায়, মজুতদারি এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সার পাচার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। প্রকৃত কৃষকের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড ও কৃষকের তালিকা ব্যবহারের ওপরও জোর দেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রী আসন্ন রবি মৌসুমের সারের বরাদ্দ ও সরবরাহ বাড়ানোর কথা জানিয়ে বলেন, অতীতের তুলনায় এ বছর চাহিদার চেয়েও বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। নতুন কোনো ফসলের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও চাহিদা বাড়লে তা মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সার পাচার রোধে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। প্রতিবেশী দেশের কিছু এলাকায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় এবং কোথাও ইউরিয়ার সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশ থেকে সার পাচারের আশঙ্কা থাকে। কোনো অবস্থাতেই দেশের সার দেশের বাইরে পাচার হতে দেওয়া যাবে না।
মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার সারে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এই ভর্তুকির সুফল যেন প্রকৃত কৃষকরাই পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। একদিকে সারের সংকটের অভিযোগ, অন্যদিকে গুদামে পর্যাপ্ত মজুত কিংবা পাচারের ঘটনা কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টাকে স্পষ্ট করে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো জেলায় সার নিয়ে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ডিসিদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রী ইউরিয়া সার শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে অপব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, বিশেষ করে বস্ত্র ও ডাইং কারখানায় ইউরিয়া সার ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা পর্যায়ের সার মনিটরিং কমিটিকে নিয়মিত সভা করার নির্দেশনা দেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন