প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একই দিনে পুলিশের গুলিতে দুই অভিযুক্ত নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ঘটনার পর, একই দিনে দুপুরে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে আরেকটি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে।
গাইঘাটায় ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় অভিযুক্ত এক যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুলিশের গুলি ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সামাউন শেখও পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
আনন্দবাজার ডট কমের খবরে বলা হয়েছে, সুজিত মণ্ডল হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সামাউনকে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ধুলিয়ান বাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়।
একপর্যায়ে সামাউন পুলিশের গুলি ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে সামাউনকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট সামশেরগঞ্জের পুরাতন ডাকবাংলা এলাকার বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল নিখোঁজ হন। পরে তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সামিউল শেখ, তাজকিরা বিবি ও জনি শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে সামাউন শেখ হত্যামামলার অন্যতম আসামি ছিলেন বলে টিভি৯-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পশুর মাংস কাটার ছুরি দিয়ে সুজিতকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সামিউন শেখ, তাজকিরা বিবি ও জনি শেখ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সরকার তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও ওঠে। সুজিতের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল পুলিশের কাছে বারবার সাহায্য চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টিকে গুরুতর ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন।
শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর পরপরই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ধুলিয়ান টিওপির ইনচার্জ এএসআই সুমন্তকুমার দাস ও সামশেরগঞ্জ থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই সাইফুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সামশেরগঞ্জ থানার আইসি সুব্রত ঘোষকে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরাক্কার এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। এছাড়াও জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিংহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন