প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা না দেওয়ার কথা সামনে রেখে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথাও।
স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মহড়াগুলো খুব ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়াকে এটি এমন একটি বার্তা প্রদান করে, যা ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী’ বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউসে থাকার সময় উত্তর কোরিয়া ‘হুমকিহীন ও সম্মানজনক’ আচরণ করেছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কিম জং উনের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’ যদিও তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানের প্রসঙ্গেও ট্রাম্প কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, ‘সম্প্রতি আমি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নিরস্ত্রীকরণে তারা কি আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চান। তারা বলেছে, ‘না, ধন্যবাদ!’
ট্রাম্প আরও বলেন, মহড়া বাতিল করার জন্য তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে এবং এজন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে মহড়াগুলো ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক মহড়া পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছরের ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া ১৭ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১১ দিন চলবে, যেখানে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেবেন। এটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ গ্রীষ্মকালীন মহড়া।
উত্তর কোরিয়া মহড়াগুলোকে বরাবরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পিয়ংইয়ং দাবী করে, এগুলো দেশের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি অথবা আক্রমণের মহড়া। গত সপ্তাহে, উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ মহড়াকে উসকানিমূলক বলে নিন্দা করে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র শুক্রবার মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা একটি পারমাণবিক জোটের রূপ নিচ্ছে, এবং পিয়ংইয়ং নতুন মাত্রার হুমকির মধ্যে নতুন মাত্রার প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শন করবে বলেও সতর্ক করেন।
পরের দিন, কিম জং উনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন ট্রাম্প। ছবিটি সম্পর্কে তিনি লেখেন, ছবিতে কিমের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ নয় এমন অভিব্যক্তি’ থাকলেও দুই নেতার মধ্যে দারুণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন