প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের হুতিগোষ্ঠী সউদী আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং সামরিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ছয়টি হামলার দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন। তবে, এসব হামলার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
হুতিদের পরিচালিত আল-মাসিরা টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি জানান, সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং আবকাইক শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সউদী আরামকোর একটি স্থাপনার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এছাড়া, লোহিত সাগরের উপকূলে রাবিগ তেল শোধনাগারেও হামলার দাবি করেছেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম শহরের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, এই হামলার ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এছাড়া, সউদী আরবের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী নাজরান অঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছেন ইয়াহিয়া সারি। তিনি জানান, এতে সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে, হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার, সউদী নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন আহত হন এবং একটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, হুতিগোষ্ঠী দাবি করেছে, ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সউদী বিমান হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে, এই দাবির বিষয়ে বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনা সউদী আরব ও হুতিগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ঘটছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে, যা সউদী আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালের শেষ দিকে সংঘাত শুরু হয়। ওই সময় হুতিগোষ্ঠী রাজধানী সানা ও দেশের উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সউদী আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট দেশটিতে অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন