প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতিতে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। এই উন্নতির ফলে জেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন, যাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন এবং উৎপাদন কার্যক্রমের অবস্থা জানা যায়। তিনি স্প্যারো ফ্যাশন, ডিবিএল গার্মেন্টস, জয়দেবপুর গ্রিড এবং তিতাসের আঞ্চলিক বিপণন কেন্দ্র (স্টেশন) পরিদর্শন করেন।
সম্প্রতি, জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। এর ফলে শিল্প মালিকদের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার পর সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর ফলে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিদ্যুতের লোডশেডিংও কমেছে।
গাজীপুরের শিল্পকারখানার গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পূর্বে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া পরিদর্শনকালে জানান, শিল্পখাতের উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "শিল্পের স্বার্থে বর্তমান পরিস্থিতি আরো স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।"
তিনি গ্যাসের চাপ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, লোডশেডিং এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পল্লী বিদ্যুৎ ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এদিকে, শিল্প মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং শিল্পখাতে ক্ষতির পরিমাণও হ্রাস পাবে।
জেলা প্রশাসন জানায়, গাজীপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। তৈরি পোশাক, ডায়িং, স্পিনিং, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতের বিপুলসংখ্যক শিল্পকারখানা এ জেলায় অবস্থিত। এসব শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসন শিল্পখাতের স্বার্থে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন