প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে কর্মরত একজন মার্কিন কূটনীতিককে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সঙ্গেও জড়িত একজন থাই নারীকে আটক করেছে পুলিশ, এ বিষয়ে কূটনৈতিক মহলের একাধিক সূত্র বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে। খবর এপির মাধ্যমে জানা গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে তারা ঘটনাটির সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রকাশ করেনি।
একটি ই-মেইল বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ‘পরিবার ও স্বজনদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ মুহূর্তে আমাদের কাছে দেওয়ার মতো আর কোনো তথ্য নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিয়ানমারে কর্মরত কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের তিনজন সদস্য জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইয়াঙ্গুনের সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেলে ওই কর্মকর্তার মরদেহ পাওয়া যায়।
এই দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সুবিধাসম্পন্ন হোটেলটি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। এটি মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে এবং এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে একজন থাই নারীকে হেফাজতে নিয়েছে।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি-কে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটি ব্যাপক সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। সেখানে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থী বাহিনী লড়াই চালাচ্ছে।
মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ সাধারণত গণমাধ্যমকে খুব কম তথ্য প্রদান করে থাকে। যে পুলিশ স্টেশনটি সাকুরা হোটেল এলাকার দায়িত্বে রয়েছে, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অন্যদিকে সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেলের ব্যবস্থাপকও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এছাড়া ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত থাই দূতাবাস এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আটক থাই নারীকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা তদন্ত সংক্রান্ত অন্যান্য কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং এখন পর্যন্ত মার্কিন, মিয়ানমার বা থাই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ বা সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন