প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বগুড়ার শাজাহানপুরের জালশুকা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক রানা মিয়া (৩২) মাত্র ২৭ শতক জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করে এখন লাখপতি হয়ে উঠেছেন। তিনি কৃষক নুরুল ইসলামের ছেলে। তাঁর সফলতার গল্প এবং বাম্পার ফলন হওয়া মরিচ খেতটি একনজর দেখার জন্য প্রতিদিন আশপাশের এলাকার উৎসুক কৃষকেরা জালশুকা পশ্চিমপাড়া গ্রামে ভিড় করছেন।
কৃষক রানা মিয়া জানান, তাঁর এলাকায় প্রায় দুই যুগ ধরে হাইব্রিড মরিচের চাষ হয়ে আসছে। তিনি নিজেও কয়েক বছর ধরে এই চাষ করছেন। ফলনের মাত্রা হাইব্রিড মরিচের জাতের ওপর নির্ভরশীল। কিছু জাতের ফলন কম, আবার কিছু জাতের ফলন বেশি হয়। রোগবালাইও জাতের ওপর নির্ভর করে। এবারে ওই এলাকার কৃষকরা টাইগার হট, কারিশমা, গ্রিন সুপার, কোরিয়ান ডিজি, গোল্ডেন কিং, ডিজি-১৮১৮, গোল্ডেন প্লাস, পেট্রোল প্রভৃতি জাতের হাইব্রিড মরিচ চাষ করেছেন। তবে রানা মিয়া ২৭ শতক জমিতে টাইগার হট জাতের মরিচ চাষ করেছেন। চারা রোপণের ২ মাসের মধ্যে মরিচ ধরতে শুরু করে। বর্তমানে তাঁর মরিচ খেতের বয়স ৩ মাস। ইতোমধ্যে ৩ দফায় ৩৮ মণ মরিচ আহরণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। অপরদিকে, ২৭ শতক জমিতে মরিচ আবাদ করতে তাঁর খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। মরিচের ফলন পাওয়া যাবে আরও ৬ মাস পর্যন্ত। কৃষক রানা মিয়া আশা প্রকাশ করেন যে, ২৭ শতক জমি থেকে আরও ২ লাখ টাকার মরিচ তুলতে পারবেন।
পার্শ্ববর্তী মোস্তাইল গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা শাহজাহান আলী জানান, তিনি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে মরিচ চাষে কৃষক রানা মিয়ার সফলতার গল্প শুনতে এবং বাম্পার ফলন হওয়া মরিচ খেতটি দেখতে জালশুকা পশ্চিমপাড়া গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আরও অনেক উৎসুক কৃষককেও দেখতে পান। তিনি বলেন, "রানা মিয়ার মরিচ খেতের ফলন সত্যিই অবাক করার মতো। প্রতিটি গাছ থেকে এক তোলাতেই অর্ধকেজি মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। এমন বাম্পার ফলন কৃষকের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।" একই সাথে বাজারে মরিচের চাহিদা পূরণেও এটি ভূমিকা রাখবে।
শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন জানান, উচ্চমূল্যের ফসলের মধ্যে হাইব্রিড মরিচ অন্যতম। শাজাহানপুরের কৃষকরা হাইব্রিড মরিচ চাষের পাশাপাশি মরিচের চারা উৎপাদনেও এগিয়ে রয়েছেন। উপজেলার শাহনগর গ্রামে মরিচের চারা উৎপাদনে নার্সারি পল্লী গড়ে উঠেছে। ধীরে ধীরে আশপাশের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে চারা উৎপাদনের কার্যক্রম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন