প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভূ-গাঠনিক অবস্থান, নরম মাটি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের ভয়াবহ সমন্বয় ভেনেজুয়েলায় পরপর আঘাত হানা দুই ভূমিকম্পের কারণে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জুনের শেষ দিকে উপকূলীয় কাতিয়া লা মার এলাকায় জেন্নিরে গার্সিয়ার বাড়ি ভূমিকম্পের কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে। লা গুয়াইরা রাজ্যকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ভূমিকম্প দুটি।
বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর দিয়েছে করাকাস থেকে।
৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ৬ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ১৯০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং আরও ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গার্সিয়া ও তার পরিবার বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের পাশে একটি তাঁবুতে বসবাস করছে। ৪২ বছর বয়সী গার্সিয়া বলেন, ‘সারাদিন মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে থাকি।’
১৯৯৯ সালে হাজারো মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া ভয়াবহ ভূমিধসও একই এলাকায় আঘাত হেনেছিল।
প্রকৌশলী ফেলিসিয়ানো দে সান্তিস জানান, এ অঞ্চলের ‘অসংবদ্ধ’ মাটিও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এ ধরণের মাটিতে নির্মাণকাজের পূর্বে নির্দিষ্ট ভূ-প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ভেনেজুয়েলার জিওলজিস্টস সোসাইটির সভাপতি দে সান্তিস আরও বলেন, ‘এ ধরণের মাটি সাধারণত খুব নরম হয়।’ ফলে ভূমিকম্পের সময় মাটি আরও তীব্রভাবে কেঁপেছে।
গার্সিয়ার বসবাসের কমপ্লেক্সটিও বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর এর হলুদ দেয়ালজুড়ে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি বারান্দা ভবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং কিছু বহুতল ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
‘ভীষণ উদ্বিগ্ন’- ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধান এখনও বন্ধ করেনি উদ্ধারকারীরা। ১২ তলা পর্যন্ত উঁচু ভবনের ধ্বংসস্তূপেও তারা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভবন নির্মাণের ভূমিকম্প-সংক্রান্ত বিধিমালা সর্বশেষ সংশোধন করা হয়েছিল ২০১৯ সালে, এর আগে তা করা হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। ওই বছর দেশে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
জাপানি প্রকৌশলী কিত মিয়ামোতো বলেন, লা গুয়াইরার অবকাঠামো খতিয়ে দেখলে নির্মাণকাজে বড় ধরণের ত্রুটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওয়াশিংটনের সহায়তায় তিনি রাজ্যটি পরিদর্শন করছেন।
২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে প্রয়াত নেতা হুগো শাভেজের সরকার ৪৩টি বড় সামাজিক আবাসন প্রকল্পের বহুতল ভবন নির্মাণ করে।
ভূমিকম্পে এর ১৬টি ভবন ধসে পড়ে। এতে কয়েক শত বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
আর্মান্দো ডট ইনফোর সাম্প্রতিক এক তদন্তে উঠে এসেছে, ‘যেসব কোম্পানির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা ছিল না, তাদের ইচ্ছামতো চুক্তি দেওয়ায়’ ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে।
কারাকাসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চাওকাওতে ৬৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তিনটি ভবন ধসে পড়েছে এবং আরও কয়েক ডজন ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ভেনেজুয়েলার ইঞ্জিনিয়ারিং অর্ডার জানিয়েছে, এসব ভবনের বেশিরভাগই ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পের আগে নির্মিত হয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিনিধি ও প্রকৌশলী ফেলিক্স ওহেদা বলেন, ‘কিছু ভবনে শক্তিবর্ধক কাজ করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ধ্বংসস্তূপের নমুনা অবকাঠামোর অবস্থার সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
মিয়ামোতো বলেন, ‘পরবর্তী সুস্পষ্ট পদক্ষেপ হলো ভবনগুলো ভেঙে ফেলা।’ তবে তিনি আরও বলেন, যতটা সম্ভব ভবনগুলোর সংস্কার ও শক্তিবর্ধক কাজ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ভূমিকম্পের পর সরকারের ধীরগতির ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রড্রিগেজ এ বছর প্রায় ৪ হাজার আবাসন ইউনিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার পূর্বসূরি নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ওয়াশিংটনের প্রভাবের মধ্যে কার্যত দেশ পরিচালনা করছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন