প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইউক্রেনকে নতুন ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে, যা দেশের আগামী বছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেবে। এ বিষয়ে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন।
মিচাল ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, "দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহায়তা চালিয়ে যেতে হবে এবং তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেই আসতে হবে।"
গত বছরের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ইউক্রেনের আর্থিক চাহিদার বড় অংশ মেটাতে ৯ হাজার কোটি ইউরোর ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। তবে কিয়েভ জানিয়েছে, আগামী বছরে তাদের ৭ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থের ঘাটতি হতে পারে, যা প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় ও সরকারের নিয়মিত খরচ মেটাতে প্রয়োজন।
ইউরোপের কিছু দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে জব্দ থাকা রাশিয়ার সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু বেলজিয়ামে থাকা এসব সম্পদের বড় অংশের কারণে দেশটি এবং ইইউর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের আপত্তির ফলে এই প্রস্তাব আটকে রয়েছে।
মিচালের মতে, ইউক্রেনকে নতুন ঋণ দেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে সম্ভাব্য সমাধান। তিনি বলেন, "ইউরোপ এর আগেও বহুবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। ফলে এ ধরনের ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ইউরোপের কাছে পরিচিত।"
এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অর্থায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। তিনি মনে করেন, আগামী বছর ইউরোপের অনেক দেশে নির্বাচন থাকায় আগেভাগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ইউক্রেনকে দেওয়া আগের ৯ হাজার কোটি ইউরোর ঋণের অর্থ জোগাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সম্মিলিত বাজেটের বিপরীতে ঋণ নিচ্ছে। নতুন ঋণের অর্থ কীভাবে জোগাড় করা হবে, এ বিষয়ে মিচাল বলেন, "ইউরোপ শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো উপায় খুঁজে বের করবে। পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে পৌঁছালেও ইউরোপ সমাধানের পথ বের করতে পারে।"
রাশিয়ার ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যয় মেটাতে পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে আগামী বছরের সম্ভাব্য অর্থ ঘাটতি পূরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সিদ্ধান্ত কিয়েভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন