প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাত্র ১০ দিন আগে খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন আজমুল হোসেন, যিনি আযম নামেও পরিচিত (২৩)। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলামনগর রোডের চারতলা একটি মেসে বসবাস করতেন। সেখানে ভাত চুরি করার অভিযোগে তাকে সহপাঠী ও বহিরাগতদের দ্বারা মারপিট করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ঘটে গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে।
নিহত আজমুল চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিন ও আসমা বেগমের বড় ছেলে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আজমুলকে মারপিট করে চারতলা ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলামনগর রোডের চারতলা ভবনটি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মেসে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী বসবাস করেন। আজমুল ডি-৮ কক্ষের ভাড়াটিয়া ছিলেন। মেসের বর্তমান ম্যানেজার মেহেদী, যিনি গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, ডি-২ কক্ষে থাকেন।
তারা জানান, শুক্রবার রাতে আজমুলের বিরুদ্ধে মেসের ভাত খেয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় মেস ম্যানেজার মেহেদীসহ অন্যান্য ছাত্র এবং বহিরাগতরা তাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে মারপিট করে। একপর্যায়ে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে ওই মেসের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে আজমুলকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আজমুলকে নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আজমুলের বাবা ও পরিবারের সদস্য খুলনায় আসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তিনি বাইরে বের হন। এ সময় পাশের ভবনের চতুর্থ তলায় একজনকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখেন। পরে তাকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে, অর্থাৎ খাজা হলের গেটের বাইরে একটি বাড়িতে ঘটেছে। বাড়িটি ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।
নিহত আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন জানান, মাত্র ১০ দিন আগে আজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। তার দুই ছেলের মধ্যে আজমুল বড়। তিনি জানান, আজমুল লেখাপড়ার জন্য খুলনায় এসেছিল। গত বছর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। এবার ভর্তি হওয়ায় তিনি খুব খুশি ছিলেন, কিন্তু এখন সব শেষ হয়ে গেছে।
তিনি জানান, আজমুল শুক্রবার বাড়ি থেকে খুলনায় এসেছিল এবং রাত ৯টার দিকে ফোন করে জানিয়েছিল যে সে ভালো আছে। কিন্তু অনেক রাতে একটি ছেলে আজমুলের ফোন নম্বর দিয়ে কল করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে। আজমুল নাকি ঝামেলা করেছে! ‘গরীব মানুষ, কোথায় টাকা পাবো’ বললেও সেই ছেলে দ্রুত আসার জন্য বলে। আর সকালে শুনছেন, সেই ছেলে নাই হয়ে গেছে।
কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘যে ছেলে রাতে আমাকে চিন্তা করতে বারণ করল, সেই ছেলেকে অন্য ছাত্ররা পিটিয়ে মারল। আমি কারও কাছে বিচার দেব না। আমরা গরিব মানুষ। বাড়ি অনেক দূরে। আমরা বিচার পাব না। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। আল্লাহই বিচার করবেন।’
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মেসের অধিকাংশ সদস্যরাই পালিয়েছে। নিহত আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করবে। অপরাধীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি জানান, নিহতের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে দেওয়া হচ্ছে।
খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কানাই লাল সরকার বলেন, ছেলেটি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন