প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলের বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজের খুতবা এক ও অভিন্ন করার সরকারি প্রস্তাবের ফলে তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদির সরকার কাশ্মীরের মুসলিম ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে।
বিরোধিতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান দারাকশাঁ আন্দ্রাবি তার পূর্বের বক্তব্য থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। তিনি জানিয়েছেন, সামাজিক ইস্যু বা সমসাময়িক সংকট নিয়ে কথা বলার বিষয়টি এখন থেকে স্বাধীন আলেম ও খতিবদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।
কী ছিল সেই বিতর্কিত প্রস্তাব?
সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি ঘোষণায় বলা হয়েছে, অঞ্চলটির মসজিদগুলোর জুমার খুতবা অভিন্ন বা নির্ধারিত হওয়া উচিত। স্থানীয় বিজেপি নেত্রী দারাকশাঁ আন্দ্রাবি এই বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের শীর্ষ ধর্মীয় স্কলার ও রাজনৈতিক নেতারা একে “ধর্মীয় বিষয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন হস্তক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন।
গত রবিবার ওয়াকফ বোর্ড প্রায় দেড় হাজার শীর্ষ আলেম ও খতিবকে একটি বৈঠকে তলব করে। সেখানে জানানো হয়, বোর্ডের গঠিত একটি কমিটির তৈরি করা খুতবাই জুমার দিন সব মসজিদে একযোগে পাঠ করতে হবে। তবে উপস্থিত আলেমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কথা না শুনে এককভাবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে দাবি করে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের আশঙ্কা
কাশ্মীরের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এই প্রস্তাবকে সরাসরি ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা (অনুচ্ছেদ ৩৭০) বাতিলের পর থেকে স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ উপত্যকায় নতুন করে অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন