প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং সম্পর্কের বরফ গলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে বহুপাক্ষিক যোগাযোগের পথ খুলে দিল ভারত। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর মঞ্চে ইসলামাবাদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নয়াদিল্লি। ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগামে জঙ্গি হামলা এবং পরবর্তীতে ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযানের ফলে দুই দেশের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটেছিল। সেই সংঘাতের পর এই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের কোনও মন্ত্রীকে ভারতে আসার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে।
আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক পুরানা কিল্লায় এসসিও-র প্রথম 'সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ ফোরাম' অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তানসহ সংগঠনের ১০টি সদস্য দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ভারত কর্তৃক। বিশেষ করে পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খান খিচিকে এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে পাক মন্ত্রী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে দিল্লি সফর করবেন কি না, তা ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
কূটনৈতিক মহলের বিশ্লেষণে, যদি পাক মন্ত্রী খিচি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভারতে আসেন, তবে এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হবে। কারণ, ২০২৩ সালের মে মাসে গোয়ায় অনুষ্ঠিত এসসিও-র বৈঠকে তৎকালীন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভূট্টোর যোগদানের পর থেকে আর কোনো পাকিস্তানি মন্ত্রী ভারত সফর করেননি।
২০২৫ সালে চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র-র শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সাংস্কৃতিক সংলাপের প্রস্তাব রেখেছিলেন। প্রাচীন সভ্যতা, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা মজবুত করাই এই ফোরামের মূল লক্ষ্য। গত ২০ অক্টোবর তাজিকিস্তানের দুশানবেতে পররাষ্ট্র-র সদস্য রাষ্ট্রগুলির বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মেলনের কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করেন।
নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ জানানো হলেও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফগলা বা বড় কোনো রাজনৈতিক উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখার পক্ষপাতী নন। তাদের মতে, এটি সম্পূর্ণরূপে একটি বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। তবে বৈরিতা কাটিয়ে পাকিস্তান এই কূটনৈতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ করে কি না এবং এর মাধ্যমে বরফ কিছুটা হলেও খোলে কি না, সে দিকেই নজর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন