প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের উচ্ছেদের কাজ চলাকালীন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আকস্মিকভাবে একটি মিনার ভেঙে মসজিদের ছাদের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
কিছু দিন আগে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
বৃহস্পতিবারের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা মসজিদ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে ভাঙার কাজ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং ধর্মীয় স্থানটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা কান্না ও হতাশায় চিৎকার করে ওঠেন।
উচ্ছেদ কাজ চলাকালীন একটি ক্রেন বা যন্ত্রের বেল্ট ছিঁড়ে গেলে মিনারের একটি অংশ সরাসরি মসজিদের ছাদের ওপর পড়ে এবং ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উজ্জয়িনীর জেলা সংগ্রাহক (কালেক্টর) রৌশন কুমার সিং এক বিবৃতিতে জানান, উভয় পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতায় উচ্ছেদের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ছত্র চকে অবস্থিত মসজিদের অংশটি অপসারণের সময় কোনো ব্যক্তি আহত হননি।
আসন্ন 'সিংহস্থ কুম্ভ ২০২৮' উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য একটি প্রধান ৯০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মসজিদের একটি অংশ ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
কালেক্টর বলেন, "উজ্জয়িনীতে রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ চলাকালীন মসজিদের একটি অংশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হননি। পুরো কাজটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন এবং আমরা তাদের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছি।"
তিনি সর্বসাধারণকে কেবল নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি সতর্ক করে দেন যে, যদি কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা মিথ্যা খবর ছড়িয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গুরু প্রসাদ পরাশরের মতে, কাজটি যাতে নিরাপদে সম্পন্ন হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি না হয়, সেজন্য ঘটনাস্থলের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মসজিদের যে অংশটি ভাঙা হচ্ছে তার নিচতলায় বেশ কিছু দোকান রয়েছে।
কাঁঠাল ক্রসিং থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত রাস্তাটি ১৫ মিটারে উন্নীত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের সীমানার মধ্যে পড়া সকল অবকাঠামো সরিয়ে ফেলা বা পরিবর্তন করা হচ্ছে।
উজ্জয়িনী পৌর কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজকুমার রাঠোর জানান, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ছত্র চক থেকে গোপাল মন্দিরের দিকের ২.৭ মিটার অংশ এবং অপর প্রান্তের ১.৪ মিটার অংশ রাস্তা সম্প্রসারণের সীমানায় পড়েছে, যার জন্য আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
এই কাজের কারণে স্থানীয় দোকানগুলোও প্রভাবিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, "যেহেতু কাজটি কারিগরিভাবে স্পর্শকাতর, তাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ধাপ অনুযায়ী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এটি সম্পন্ন করছেন।"
শহরের কাজী খালিকুর রহমান জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়মিত এই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন। উজ্জয়িনীর এই শাহী মসজিদটি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো বলে দাবি করা হয়।
রাস্তা প্রশস্ত করার এই মহাপরিকল্পনার আওতায় ধর্মীয় স্থানসহ মোট ২৭২টি অবকাঠামো প্রভাবিত হবে। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯.৮ কোটি রুপি অনুমোদন করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন