প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ইনফ্লুয়েন্সার সাহারা রে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। মার্কিন বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড গতকাল সোমবার তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে।
সাহারার পরিবার সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শেষ মুহূর্তে পরিবারের সবাই তার পাশে ছিলেন। সবাই তাকে খুব ভালোবাসতেন।’
বছরের শুরুতে সাহারা মা হয়েছেন। তার কন্যার নাম রাখা হয়েছে স্নো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সর্বশেষ পোস্টটিও ছিল ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো।’ সেই পোস্টের মাত্র তিন মাস পর তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
সাহারার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবার শুরুতে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ফেন্টানিল নামের একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রবিবার পরিবারের সদস্যরা জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে সাহারার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিবার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের ঘটনা দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।
সাহারা জানুয়ারিতে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন এবং মেয়ের নাম রাখেন স্নো। মা হওয়ার আনন্দ তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। সন্তান জন্মের আগে ২৫ জানুয়ারি এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, সেদিন রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নিজের উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
গত ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে মেয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন সাহারা। সেটিই তার ইনস্টাগ্রাম পাতায় সর্বশেষ পোস্ট। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেই ছবিগুলো ঘিরে আবেগঘন মন্তব্য করছেন অনুসারীরা। ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে তার শেষ বার্তাটি এখন ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছে স্মৃতিময় এক মুহূর্ত।
মৃত্যুর পূর্ববর্তী কয়েক বছর শারীরিক নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সাহারাকে। ২০২৪ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম নামের বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছরের এপ্রিলে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার পর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মদ্যপ এক গাড়িচালক তাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর একপর্যায়ে ঊরুর ওপরের অংশ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতি ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন সাহারা। চলাফেরার জন্য তাকে হুইলচেয়ার ও হাঁটার সহায়ক সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করতে হতো।
শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের সংকট নিয়েও সাহারা খোলামেলা ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, মাদক ও অ্যালকোহলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এজন্য ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতা অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন এই মডেল।
তবে অতীতে আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত সার্ফার টনি রের মেয়ে সাহারার শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে অস্ট্রেলিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে। বাবার সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। তবে কৈশোর পেরিয়ে মডেলিং ও ফ্যাশন ডিজাইনের জগতে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৪ সালে নিজের সাঁতারের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘সাহারা রে সুইম’ চালু করেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয়তার কারণে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে তার। ২০১৬ সালে হাওয়াইয়ে জাস্টিন বিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসেন সাহারা। তাদের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হলেও কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেননি। এর আগে অস্ট্রেলীয় সংগীতশিল্পী কোডি সিম্পসনের সঙ্গেও তার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন