প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৪ (বা প্রয়োজনাভিমুখী তারিখ)
সংসদ সদস্য মানেই জনগণের সেবক এবং তৃণমূলের শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু বরিশাল-৫ (সদর) আসনের দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে ঘটে চলেছে ঠিক তার উল্টো ঘটনা। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেও সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ ও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। শুধু তা-ই নয়, এমপির বাসায় গিয়ে অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে ফিরতে হচ্ছে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তাদেরও। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ।
সর্বশেষ গত বুধবার সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী তাদের নানাবিধ দাবি ও দলীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতে সাধুর বটতলায় অবস্থিত এমপি সরোয়ারের বাসভবনে যান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সালাম রাঢ়ী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সাবু, ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে এমপিকে খবর পাঠানো হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের বাসার সামনে বসিয়ে রাখা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর, রাত সোয়া ১০টার দিকে কোনো সাক্ষাৎ না দিয়েই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নবনির্বাচিত এমপির এমন বিমুখ আচরণে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছেন তৃণমূলের সমর্থকেরা।
দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, গত জুলাই মাসে সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে সদস্যসচিব করে ১৬১ সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়, তার পেছনে এমপি সরোয়ারের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা এই 'বিতর্কিত' কমিটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি পালন করলেও সরোয়ারের হস্তক্ষেপে হাইকমান্ড কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, "ত্রয়োদশ নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়ী করতে দিনরাত পরিশ্রম করেছি। অথচ এমপি হওয়ার পর তিনি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ ও জামায়াতঘেঁষা বিতর্কিতদের পদে বসাচ্ছেন। আর ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অপমান করছেন।"
এমপির বাসভবন ঘিরে একটি বিশেষ বলয় বা 'সিন্ডিকেট' গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, "ডিম রিয়াজ" ও সাব্বির নামে কতিপয় ব্যক্তির দাপটে সাধারণ নেতাকর্মী বা সাধারণ মানুষ এমপির সাথে সহজে কথা বলতে পারেন না।
কেবল দলীয় নেতাকর্মীই নন, এমপির বাসভবনে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অপদস্থ হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। মাস দুয়েক আগে বরিশাল জেলার এক শীর্ষ কর্মকর্তা কথা বলতে গেলে এমপির উপস্থিতিতেই 'ডিম রিয়াজ' তাকে গালাগাল ও হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এক সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির এমন আচরণ কেবল রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং আগামীতে তার নিজস্ব ভোটব্যাংকেও চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বরিশাল বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন, এমপির বাসভবনে গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নজরে আনা হয়েছে।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থতি ও তৃণমূলের অসন্তোষের বিষয়ে জানতে এমপি মজিবুর রহমান সরোয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, বুধবার যারা এমপির বাসভবনে এসেছিলেন, তারা সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা পূর্বে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করায় এমপি হয়তো ক্ষুব্ধ হয়ে সাক্ষাৎ দেননি।
সংসদীয় আসনে দলের মূল চালিকাশক্তি তৃণমূল নেতাকর্মীদের এভাবে অবমূল্যায়ন করা অব্যাহত থাকলে বরিশাল বিএনপির অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও চওড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বরিশালবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন