প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামের নদের তলদেশে তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইনের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে।
এই ঘটনার সত্যতা শনিবার প্রকাশিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট চললেও প্রায় দেড় মাস ধরে বাতাসে গ্যাস উড়ে নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস নষ্ট হলেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।
জানা গেছে, অনুমোদনহীন একটি চুনাপাথর কারখানার জন্য চোরাই সংযোগ দিতে গিয়ে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামের নদের তলদেশে তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইনের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস প্রায় ৪৫ দিন ধরে অনবরত বের হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিকেজ থেকে প্রতিদিন গ্যাস বুদবুদ আকারে প্রবল গতিতে বের হয়ে আসছে। যার ফলে চারদিকে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রের সম্পদের এভাবে ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে কারখানার মালিক পলাতক রয়েছে। স্থানীয় ও কিছু প্রভাবশালী অদৃশ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। অভিযুক্তরা এখনও অধরা রয়েছে।
তিতাসের সূত্রে জানা যায়, লিকেজ বন্ধ করতে গিয়ে তিতাস গ্যাসের কর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। নদীর প্রবল স্রোত, পানির চাপ এবং তলদেশের মাটি ধসে পড়ায় মেরামতের কাজ জটিল হয়ে উঠেছে। নদীর তলদেশে লিকেজের জায়গাটি চিহ্নিত করে মেরামতের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের মধ্যে চিন্তা রয়েছে যে, নদীর তলদেশের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইন থেকে নদীর পাশেই দুই মাস আগে একটি চুনাপাথর কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় পাইপলাইনে ছিদ্র হওয়ার কারণে গ্যাস বের হতে শুরু করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক বাসিন্দার মতে, এলাকার শেষ সীমা এবং নদীর পাশে হওয়ায় জায়গাটি বাছাই করা হয়েছে। তাদের মতে, গ্যাস চুরি করে কারখানা চালানোর উদ্দেশ্যে এসব করা হয়েছে। তারা মনে করেন, তিতাস গ্যাসের লোকজনই অবৈধ সংযোগ দিয়েছিল। অন্য কেউ লাইনে হাত দেওয়ার সাহসও করতে পারবে না। তাদের দাবি, কারখানা করতে পেছন থেকে প্রভাবশালী লোকজনের সহায়তা ছিল। যারা জড়িত এবং সহায়তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে, অবৈধ সংযোগের চেষ্টা হয়েছিল কিনা তা এখনও নিশ্চিত করেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ।
কাজীরচর গ্রামে বাসিন্দা সবুজ, বাতেন, খলিল মিয়াসহ অন্যান্যরা মনে করছেন যে, এতদিন ধরে গ্যাস নষ্ট হলেও কর্তৃপক্ষের তৎপরতা তাদের চোখে পড়েনি। এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। বাতাসে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক বেড়েছে। এ ধরনের আরো চোরাই লাইন কোথায় রয়েছে, তা সরকারের তদন্ত করে বের করা উচিত এবং দায়ীদের কঠোরভাবে শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
কিশোরগঞ্জ তিতাস গ্যাসের জোনাল বিক্রয় অফিসের ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পেয়েলসি ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন জানান, লিকেজের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সাথে পাইপলাইনের চাপও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিতাস গ্যাস ময়মনসিংহ অঞ্চল (ভালুকা) ডিভিশনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. শামীম হোসেন জানান, এটি মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ ডিআরএস পর্যন্ত গ্যাস পরিবহনের উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইন। এই লাইন থেকে সরাসরি কোনো গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয় না। তবে, সৃষ্ট সমস্যা ও পাইপলাইনে ছিদ্রের কারণ খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত চলছে।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অসাধু চক্র লাইন ছিদ্র করে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পাশেই একটি চুনাপাথরের কারখানা রয়েছে। এখানকার লোকজন পলাতক। তদন্ত শেষে যথাযথ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘লিকেজ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এখানে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কিনা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ালে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন