প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কুমারুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খালিকুজ্জামান সুজনের (৩৮) মুক্তির দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের অন্তত ৩০০ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। এই ঘটনার ফলে বিদ্যালয় চত্বর ও আশপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক খালিকুজ্জামান সুজন নিজস্ব কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। সেখানে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিচার দাবি করলেও পরে জানা যায়, ভুক্তভোগী দাবি করা ছাত্রী এবং তার পরিবার এই অভিযোগটি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে। মেয়েকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ ও পরিবারের মান সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার কারণে মেয়ের বাবা থানায় উল্টো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চান মিয়া নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার রাতে শিক্ষক সুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ হিসেবে দাবি করে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বাইরে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ও অন্যান্য শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁন মিয়া বলেন, "আমি মামলার বাদীর বিষয়ে কিছুই জানি না। থানায় ধরে নিয়ে আমাকে শুধু একটি সই দিতে বলেছে।"
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ রোমান জানান, প্রধান শিক্ষক সপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন। এখন তিনি মিথ্যা বলছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন