প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কর্মশালা কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে কক্সবাজার মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রে ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি (২০২৫-২০২৬) পর্যালোচনা ও গবেষণা প্রস্তাবনা (২০২৬-২০২৭) প্রণয়ন’ শীর্ষক এই আঞ্চলিক কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মোহাম্মদ লতিফুল ইসলাম, সমুদ্র গবেষণার ইনস্টিটিউটের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. এসএম শরীফুজ্জামান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
কর্মশালায় উঠে এসেছে যে, সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজার-এর বিজ্ঞানীরা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিরলসভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করেছেন। এই গবেষণার আওতায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নির্ধারণ, সামুদ্রিক মাছের মজুদ নিরূপণ, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির প্রজনন সময়কাল চিহ্নিতকরণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।
উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে কোরাল মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র শনাক্তকরণ, বেহুন্দি জালের ফাঁস নির্ধারণ, নিরাপদ শুঁটকি উৎপাদন, আর্টেমিয়া চাষ, খাঁচায় ও ভাসমান ভেলায় সামুদ্রিক মাছ, সি-উইড ও মোলাস্ক চাষ, সি-উইড টিস্যু কালচার ও চাষ, লাইভ ফিড উৎপাদন এবং বিশুদ্ধ অ্যালজি স্টক পরিচর্যায় ইনডোর ল্যাবের বিকল্প হিসেবে বিএফআরআই পোর্টেবল ফটোবায়োরিএক্টর তৈরি।
বর্তমানে অ্যাকুয়াসেইফ প্রকল্পের আওতায় দেশীয় প্রজাতির উপকারী ব্যাকটেরিয়া পৃথকীকরণ ও জৈব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কমানোর কাজ চলছে। হ্যাচারি ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, মেরিকালচার প্রকল্পের আওতায় উপকূল এবং ল্যান্ডবেইজড ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিটপিক অ্যাকুয়াকালচার, সামুদ্রিক মাছের নিরূপণ প্রকল্পের আওতায় পোয়া মাছের মজুদ নিরূপণ, নীল সাঁতারু কাঁকড়া প্রকল্পের আওতায় সাঁতারু কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন, নার্সারি ও চাষ ব্যবস্থাপনা, ব্রিডিং প্রকল্পের আওতায় সিবাস/কোরাল মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন এবং ভ্যালু অ্যাডেড প্রকল্পের আওতায় ভ্যালু অ্যাডেড ফিশ প্রডাক্ট ও ক্যান প্রডাক্ট উৎপাদনের মতো বিবিধ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কর্মশালায় দুটি কারিগরি সেশনে ব্লু-ইকোনমির টেকসই উন্নয়নে সম্পর্কিত তিনটি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবনাসহ সামগ্রিকভাবে ৯টি কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়।
নতুন প্রস্তাবনায় সামুদ্রিক হ্যাচারি শিল্পে মাইক্রোফিড/ফিড প্রস্তুতিতে দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নসহ ল্যান্ড ভেইজড ও স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার করে বাংলাদেশের উপকূলে পটেনশিয়াল ফিশিং জোন নির্ণয় করা হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল নির্ণয়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও কোরাল মাছের হ্যাচারি পর্যায়ে বহুল পোনা উৎপাদনের বিষয়েও উপস্থাপনা করা হয়।
দিনব্যাপি এই কর্মশালায় বিভিন্ন পেশার বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মৎস্যসহ অন্যান্য সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, হ্যাচারি মালিক, মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন