প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আদালত ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রিমান্ড শুনানির সময় বিচারক প্রশ্ন তোলেন, ‘সাংবাদিকরা এখানে কেন’। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে এই ঘটনা ঘটে।
শুনানির শুরুতে এজলাসে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে বিচারক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আদালতের মধ্যে সাংবাদিকরা কেন? আপনারা কি ভেতরে ঢুকতে পারেন? শুনানির পর পিপি-এপিপিরা আপনাদের বিস্তারিত জানাবে। আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা থাকতে পারবেন না।’
বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন, ‘সব ক্লিয়ার করেন, কেউ থাকবে না ভেতরে।’ পরে সাংবাদিকরা এজলাসের পেছনে একপাশে গিয়ে দাঁড়ান এবং শুনানি শুরু হয়।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটা যেহেতু ক্যামেরা ট্রায়াল নয়, ওপেন ট্রায়াল। তাই শুধু সাংবাদিকরা নয়, পাবলিকও থাকতে পারবে। সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ এবং ন্যায়বিচারে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেন। ওপেন ট্রায়ালে তাদের উপস্থিতি জাতিকে জানাতে সহায়তা করবে। সুতরাং সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া ঠিক হয়নি।
এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন দীপকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির। তাই তিনি জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান এবং নীরবতা পালন করেন। নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আবার রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আদালতকে জানান, মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে ফের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামির সঙ্গে মামলার ভুক্তভোগীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আসামি সুকৌশলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং কথোপকথন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এছাড়া, এই মামলার সঙ্গে অন্য কোনো রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত কি না, তা জানার জন্য তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। উল্লেখ্য, এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত শনিবার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক তরুণী বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে আছেন। গত রবিবার তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন