প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের ডাসারে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করে এক সহকারী শিক্ষক পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে।
প্রতিবাদে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠীরা বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটনা ঘটে। এরইমধ্যে উপজেলার প্রশাসন ঘটনা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আজাদ হোসেন হাওলাদার। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে, কিন্তু লোকলজ্জার কারণে কেউ কিছু বলতে পারেনি। তবে, গত দুদিন ধরে ওই শিক্ষকের কথা আলোচনা হচ্ছে। তিনি নবম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বেশি নম্বর পাইয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। এই সময় কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগও ছিল।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবাদে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠীরা আন্দোলনে নেমেছে। তারা দাবি করছিলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তি প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, যা ডাসার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন আকনকে সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শিক্ষক হলো গুরুজন। কিন্তু তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ কিছুতেই শোভা দেয় না। আমাদের শরীরে হাত দিবে, আমরা সেটি মেনে নিবো না। আজাদ স্যারের বিচার না হলে আরো কঠোর আন্দোলন করবো, আমরা তার পদত্যাগ চাই।’
বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন আকন বলেন, ‘নানা কারণে শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পুরো ঘটনা তদন্ত ছাড়া কিছু বলা সম্ভব নয়। বিক্ষোভ চলার কারণে সহকারী শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার বিদ্যালয়ে আসেননি।’
অভিযুক্ত শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার পুরো ঘটনাটিকে চক্রান্ত হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘তদন্তেই ঘটনার আসল রহস্য উঠে আসবে। এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই।’
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ তাদের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন