প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের নগরকান্দায় তাস খেলায় সুদে টাকা দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে একই পরিবারের ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে প্রতিপক্ষের দ্বারা।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানিয়েছেন, টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। তবে কিসের টাকা সেটি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে বিকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় পাঁচটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অপরপক্ষের ৪ জনও আহত হয়ে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল গ্রামের হানিফ রানার সমর্থক আয়ুব আলী মিয়া ও ফজলুল হকের সমর্থক আলমগীর মিয়ার মধ্যে তাস খেলাকে কেন্দ্র করে সুদের পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। দুপুরে টাকা পাওনাদার আয়ুবের নেতৃত্বে আলমগীরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ফজলুল হকের ভাই ইয়ার আলী ও সুজন বাধা দিলে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরপর হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র রামদা, ঢাল, সরকি নিয়ে ইয়ার আলীর পরিবারটির উপর হামলা চালায়। হামলার সময় পরিবারের ৫ সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, মধ্য কাইচাইল গ্রামের সৈয়দ আলী মাতুব্বরের ছেলে ইয়ার আলী (৪০), সুজন মিয়া (৩৫) ও মেয়ে শিউলী বেগম (৩০) এবং সুজনের স্ত্রী রত্না বেগম (২৫), ইয়ার আলীর ছেলে ইয়ামিন (১৭)। এছাড়া স্থানীয় বাজারের চা দোকানি মনু মিয়াকে (৫৫) পিটিয়ে হাত ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি বর্তমানে ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
রোববার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, একই পরিবারের ৫ সদস্য হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি অ্যান্ড নিউরোলজি বিভাগের পুরুষ ও নারী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইয়ার আলীর শরীরে ধারালো অস্ত্র রামদার ৬টি কোপ রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুজন মিয়া অভিযোগ করেন, আয়ুব আলী মিয়া এলাকায় তাস খেলোয়ারদের সুদের ওপর টাকা দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, "এভাবে অনেক পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আলমগীরকে এভাবে টাকা দিয়ে ফাঁদে ফেলানো হয়েছে, প্রতিদিন এক হাজার করে টাকা দেওয়ায় সে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।"
তিনি আরও জানান, এক পর্যায়ে মোট টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সকালে আলমগীরকে গামছা দিয়ে বেঁধে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তখন তারা পাশের মনু মিয়ার চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। আলমগীরকে ধরে নেওয়া দেখে তারা বাঁধা দিলে ওই সময় তাদের মারধর করা হয়। চায়ের দোকানির হাত পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়। পরে তারা বাড়িতে চলে গেলে আধাঘণ্টা পর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। প্রথমে তার ভাইকে কোপানো হয়, তখন তিনি ঠেকাতে গেলে তাকেও কোপানো হয়।
এ ঘটনায় বিচারের দাবি জানিয়ে ফজলুল হক দাবি করেন, হানিফ রানা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তার নামে অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, "এই হানিফ রানাসহ সকল হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার দেখতে চাই।"
এদিকে অপরপক্ষের আয়ুব আলী মিয়াসহ চারজন নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে বলে জানান হানিফ রানা। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না এবং আগে গ্রাম্য দল পরিচালনা করলেও বর্তমানে তার দল পরিচালনা করেন মুন্নু মিয়া।
তিনি আরও বলেন, তাস বা জুয়ার টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়নি। মূলত আয়ুব ভারতে থাকতেন, সেখান থেকে আলমগীরের কাছে ৮৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন