প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের ফর্টিজ এফসি তাজিকিস্তানের ক্লাব এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ মিশন সমাপ্ত করেছে। যদিও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই চমৎকার জয় অর্জন করেছে, তবুও পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়নি তাদের; গ্রুপ পর্যায় থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে।
ম্যাচের শুরুতে ফর্টিজ পিছিয়ে পড়ে। ১২ মিনিটে এনদোঙ্গো ফোয়ের পাস থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে সুযোগ নেন শেরজোদ মাখামাদিয়েভ। মুনির আলমকে কাটিয়ে তার শটে ফর্টিজের গোলরক্ষক সুজন পেরেরা পরাস্ত হন। অফসাইড ও অবস্ট্যাকলের দাবি জানালেও রেফারি তা উপেক্ষা করেন, ফলে তাজিক ক্লাবটি ১-০ গোলে এগিয়ে যায়।
তবে ১৭ মিনিটে ম্যাচের পরিস্থিতি পাল্টে যায়। রেগার-তাদাজের মার্টিন আকো আসোমোর দুর্বল ব্যাক পাস ধরে ফর্টিজের নোরিকি আকাদা দ্রুত এগিয়ে যান। বক্সের বাইরে তাকে ফাউল করায় রেগারের গোলরক্ষক সেভেরিন তাকামকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া রেগার বদলি গোলরক্ষক হিসেবে শাখোবুদ্দিন মাখমুদজোদাকে মাঠে নামায়। নতুন গোলরক্ষক মাঠে নেমেই পা ওমরের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় রক্ষা করেন।
একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফর্টিজ আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। ৩৫ মিনিটে অধিনায়ক পা ওমরের পাস বুকে নামিয়ে বক্সের ভেতর থেকে শট নেন আকাদা, কিন্তু বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়, ফলে সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম থাকা সত্ত্বেও রেগার-তাদাজের প্রধান কোচ আলিশের তুখতায়েভ ডিফেন্সিভ কৌশল না নেওয়ায় উভয় পক্ষই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ৬৩ মিনিটে ফর্টিজ কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার জাপানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার সুকিকে মাঠে নামান, যা খেলার গতি পরিবর্তন করে।
মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরাতে সুকির ভূমিকা থাকে। তাকে আটকাতে গিয়ে রেগার গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়েন, কিন্তু বল পা ওমরের কাছে চলে যায়। ওমরের পাসে দূর পোস্টে রাফায়েল টুডু চোখধাঁধানো ব্যাকহিল ফিনিশে বল জালে জড়ান (১-১)।
সমতায় ফিরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ফর্টিজকে এগিয়ে যেতে বেশি সময় লাগেনি। চার মিনিট পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ভাসানো ক্রসে অনন্ত তামাং হেডে বল শিয়ান কাওয়াসাকির দিকে বাড়িয়ে দেন। চমৎকার ভলিতে ফর্টিজকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান কাওয়াসাকি।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফর্টিজের জয় নিশ্চিত করেন সুকি। পা ওমরের পাস ধরে নিখুঁত সাইড-ফুটেড বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি, ফলে ৩-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশি ক্লাবটি।
এই রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের পরও ফর্টিজের শেষ রক্ষা হয়নি। তিন ম্যাচ শেষে ফর্টিজ ও তাজিক ক্লাব রেগারের পয়েন্ট ৩ এবং গোল ব্যবধান -২। অন্যদিকে কুয়েতের ক্লাব কাদসিয়ার পয়েন্ট ৬ হওয়ায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়ে যায়। অন্যান্য গ্রুপের রানার্স-আপ দলের পয়েন্ট ৩-এর বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফর্টিজকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন