প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ ‘ওয়ান টাইম এক্সিট’ (Special Exit) সুবিধা চালু করেছে।
এই সুবিধার মাধ্যমে খেলাপি ঋণগ্রহীতারা নির্ধারিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে এককালীন অর্থ পরিশোধ করে ঋণ নিষ্পত্তি করবার সুযোগ পাবেন।
গতকাল (সোমবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি-১) সংশ্লিষ্ট একটি সার্কুলার লেটার জারি করে দেশে সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় খেলাপি ঋণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, যেসব ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছেন, কিন্তু তাদের ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে এবং ঋণ পরিশোধে আন্তরিকতা রয়েছে, তাদের জন্য এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা চালু করা হয়েছে।
এভাবে একদিকে যেমন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে নতুন ঋণের বিতরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যা উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সার্কুলারের মূল বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে মন্দ (Bad) এবং ক্ষতিজনক (Loss) শ্রেণির ঋণগুলো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় আনা যাবে।
ঋণগ্রহীতা এককালীন পুরো দায় পরিশোধ করলেই এ সুবিধা পাবেন। সেই সাথে, আরোপিত এবং অনারোপিত সুদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ববর্তী কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
বিশেষ করে ২০২২ সালের দুটি সার্কুলারে তহবিল ব্যয় আদায় এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের আয় খাত বিঘ্নিত না করার শর্তটি এ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়া, ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়ের মধ্যে পুনঃতফসিল করা মন্দ ও ক্ষতিজনক শ্রেণির ঋণও এ বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ এক্সিট সুবিধা প্রদানের সময় কৃষিখাতের স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র ঋণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে।
সার্কুলারে আরও জানানো হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে এ বিশেষ সুবিধার বিষয়ে ঋণগ্রহীতাদের অবহিত করার জন্য চিঠি পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ নির্দেশনা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৯(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশেষ এক্সিট সুবিধা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণের আদায়ে গতি আসবে এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী খাতে নতুন ঋণের প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন