প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের একজন কট্টরপন্থী জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদির নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি বর্তমানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর সর্বাধিনায়ক। এর আগে, তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আইআরজিসির সহ-প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন।
তবে, তার মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। খবরে বলা হচ্ছে যে, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ এই সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণের পক্ষে ছিলেন। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর সদস্য বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি আত্মগোপনে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এক দাবি অনুযায়ী, তেহরানে সাম্প্রতিক একটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওয়াহিদি নিহত হতে পারেন। তবে, ইরানের কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আহমাদ ওয়াহিদির মৃত্যুর দাবি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ও ইসরায়েল-ইরান সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী কিছু বিশ্লেষকের কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়ে। আহমাদ ওয়াহিদি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ারের মতে, ওয়াহিদি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আইআরজিসির ভেতরে বিশাল প্রভাব রাখেন এবং ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুসারে, ওয়াহিদি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরণের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে, তার মৃত্যুর খবর এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং ইরান সরকারও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
আহমদ ওয়াহিদি আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। সমালোচকদের মতে, তার বক্তব্যগুলো আইআরজিসির ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ছিল। সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি ওয়াহিদির মৃত্যুর খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ আঘাত হয়ে দাঁড়াবে। আইআরজিসি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্থাগুলোর একটি।
এই সংস্থাটি শুধুমাত্র সামরিক কার্যক্রমই নয়, বরং গোয়েন্দা তৎপরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডও তদারকি করে।
এদিকে, ওয়াহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর পর কিছু ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইআরজিসিবিরোধী প্রচেষ্টায় ইউরোপের আরও সক্রিয় সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত তেহরানের ওপর আরো চাপ বাড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যে অভিযানগুলোকে তারা অস্থিতিশীলতামূলক মনে করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন