প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’-এ অত্যাধুনিক এম৭৭৭ আল্ট্রা লাইট হাউইটজার ব্যবহার করে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া সম্পন্ন করেছে। রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় দুই দেশের সেনাদের কামান পরিচালনার সক্ষমতা এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, প্রথমে ভারতীয় সেনাদের কামান দল এম৭৭৭ হাউইটজারের গোলাবর্ষণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে। এরপর সফররত মার্কিন সেনারা কামান অবস্থানে এম৭৭৭ ব্যাটারির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা ও যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকর কৌশল বিনিময় করেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুশীলনে উভয় বাহিনীর আর্টিলারি সক্ষমতা এবং যৌথ কৌশলগত সমন্বয় তুলে ধরা হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আর্টিলারি দলের সদস্যরা এম৭৭৭ হাউইটজার কামান দিয়ে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে গোলাবর্ষণের সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।
এম৭৭৭ আল্ট্রা লাইট হাউইটজার একটি হালকা ওজনের অত্যাধুনিক শক্তিশালী কামান, যা সর্বোচ্চ ১৫৫ মিলিমিটার দূরে লক্ষ্যে গোলাবর্ষণ করতে সক্ষম। এটি মূলত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর নকশাকৃত দূরপাল্লার অস্ত্র, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। প্রথাগত ভারী কামানের তুলনায় এটি ওজনে অত্যন্ত হালকা হওয়ায় একে ‘আল্ট্রা লাইট’ বা অতি হালকা বলা হয়ে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলাবর্ষণের সফল অনুশীলনের পর সফররত মার্কিন সেনারা ভারতের সেনা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, কৌশল ও কার্যপদ্ধতি আদান-প্রদান করেন। মূলত এম৭৭৭ হাউইটজার ব্যবহারের ওপর একটি লেকচার ও ব্যবহারিক প্রদর্শনীর ধারাবাহিকতায় এই লাইভ ফায়ারিং পরিচালনা করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অধিবেশনে এই আর্টিলারি সিস্টেমের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল কামানের অবস্থান নির্ধারণ, স্থানীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয়, প্রতিপক্ষের গোলাবর্ষণের মুখে বিকল্প অবস্থানে সরে যাওয়া এবং গোলাবর্ষণ করেই দ্রুত স্থান ত্যাগের অনুশীলন।
ভারত ও মার্কিন সামরিক মহড়া ২২তম ‘যুদ্ধ অভ্যাস’ গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। দুই সপ্তাহব্যাপী এই মহড়াটি উত্তরাখণ্ডের অউলি ফরেইন ট্রেনিং নোড এবং রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে। উভয় দেশের পক্ষ থেকে প্রায় ৬০০ করে সেনাসদস্য এতে অংশ নিচ্ছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ গোলাবারুদ ব্যবহার করে এম৭৭৭-এর সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২৪ কিলোমিটার। সহায়ক প্রজেক্টাইল ব্যবহার করলে তা প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ে। আর এম৯৮২ এক্সক্যালিবারের মতো নির্ভুল নিশানাভিত্তিক গোলাবারুদ ব্যবহার করলে এম৭৭৭এ২ প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন