প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক, এবং বিশ্বজুড়ে তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে হত্যার একটি ভয়াবহ হুমকি প্রদান করা হয়েছিল। এই হুমকির আওতায় শুধু মেসিই নয়, আর্জেন্টিনা দলের অন্যান্য সদস্য, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে সহ বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, ফিফা কর্মকর্তাগণ ও ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরাও ছিলেন।
একটি ফাঁস হওয়া পুলিশ ডসিয়ারের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া শনিবার তথ্যটি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে মেসিসহ বিশ্বের কিছু শীর্ষ ফুটবলার, রেফারি ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে একাধিক প্রাণনাশের হুমকি, বোমা হামলার সতর্কতা, হয়রানি এবং অনলাইন হুমকি প্রদান করা হয়। এসব ঘটনার কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছিল।
সবচেয়ে ভয়াবহ হুমকির অন্যতম ছিল মেসিকে লক্ষ্য করে। পুলিশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে জানায়, সে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে হত্যার হুমকি দেয়। ওই ব্যক্তি দাবী করেছে, তাঁর শরীরে চারটি বোমা বাঁধা থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়া হবে।
এই ঘটনা ঘটেছিল আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচ চলাকাল। একই সময় স্টেডিয়ামে বোমা রাখার একটি দাবিও করা হয়েছিল। একজন ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন ডাস্টবিনে তিনটি বোমা রয়েছে বলে জানায়। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্টেডিয়ামজুড়ে তল্লাশি শুরু করে।
মেসি একমাত্র তারকা ছিলেন না, যিনি এ ধরনের হুমকির মুখে পড়েছিলেন। পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছিল। পুলিশ নথিতে রোনালদোর হোটেল সংক্রান্ত সন্দেহজনক তৎপরতার উল্লেখ রয়েছে। এক ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলে প্রবেশ করে তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।
এদিকে, ম্যাচ পরিচালনা সংক্রান্ত রেফারিদের ওপরও ব্যাপক হুমকি আসে। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারেরও বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছিল, বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) উইলি দেলাজোকেও মৃত্যুর হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠানো হয়।
ফাঁস হওয়া নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে বড় তারকাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছিল।
বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে। মেসিকে লক্ষ্য করে কথিত বোমা হামলার হুমকি সেই উদ্বেগকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন