প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একদিকে মাছ ধরার আনন্দ, অন্যদিকে দেশি মাছের সংকট-এ নিয়েই অনেক খাল-বিলে পলো বাওয়া উৎসবে মাছ ধরতে ঢল নামছে মানুষের। তবে আগের মতো নেই দেশি মাছের ভাণ্ডার। এ নিয়ে মাছ শিকারে আসা মানুষের কণ্ঠে উঠে আসছে হতাশা আর উদ্বেগ।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নানা বয়সী মানুষ পলোসহ নানা উপকরণ নিয়ে পানিতে নেমেছেন মাছ ধরতে। কেউ পলোর ভেতর হাত দিয়ে মাছ খুঁজছেন, কেউ আবার অন্য কোনোভাবে শিকারের চেষ্টা করছেন। ছড়াজুড়ে মাছ শিকারের দৃশ্যে সৃষ্টি হয় গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা আনন্দঘন পরিবেশ।
মাছ শিকারে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছড়া, নালা, দোলা ও অন্যান্য জলাশয়ে দল বেঁধে পলো দিয়ে মাছ ধরার প্রচলন ছিল। তখন এসব জলাশয়ে দেশি মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশি মাছ কমে গেছে। তাই মাছ শিকারের সেই আনন্দ এখন অনেকটা ম্লান।
মাছ শিকারিদের অভিযোগ, এক শ্রেণির মানুষ নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ধরছে। এসব জালে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ এমনকি মাছের পোনাও আটকা পড়ছে। ফলে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। এতে দিন দিন কমছে দেশি মাছ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যথাযথ উদ্যোগ ও নজরদারির মাধ্যমে শিমুলবাড়ী ছড়াসহ উপজেলার ছড়া, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয়ে দেশি মাছের প্রাচুর্য ফিরবে। আবারো প্রাণ ফিরে পাবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব।
উৎসবে ইসমাইল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম মাছ শিকারে আসেন ভাঙামোড় এলাকা থেকে। তাদের ভাষ্য, মাছের সংকটের অন্যতম কারণ চায়না দুয়ারি জালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। সূক্ষ্ম ফাঁসের এ জাল পাতা হয় পানির প্রবাহপথে। এতে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও পোনা আটকা পড়ে। এভাবে নির্বিচারে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে দেশি মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে।
রাবাইটারী এলাকা থেকে আসা ইকবাল হোসেন ও মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আগে আমরা দল বেঁধে পলো দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দোলা, ছড়া ও নালায় মাছ ধরতে যেতাম। মাছ ধরার মধ্যে এক ধরনের আনন্দ ও প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু এখন আর আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যায় না। চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহারে দেশি মাছ বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ছে।
দুই মাছ শিকারি আরো বলেন, দেশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র রক্ষা, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি।
স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের ভাস্য, ‘ফুলবাড়ী উপজেলায় বড় ছড়াগুলোর মধ্যে শিমুলবাড়ী ছড়া অন্যতম। একসময় এ ছড়ায় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আগের মতো দেশি মাছ আর মিলছে না। তবু মাছ ধরার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসে। তবে দল বেঁধে পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়লেও অনেকের মুখেই শোনা যায়, ‘ছড়ায় এখন মাছের বড়ই অভাব’।
প্রধান শিক্ষক বলেন, শিমুলবাড়ী ছড়ায় মাছ ধরতে আসা মানুষের ভিড় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনের আনন্দকে তুলে ধরে। তবে দেশি মাছ কমে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
জলাশয়গুলোতে মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে হলে মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন এই শিক্ষক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন