প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে থানার সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। বর্তমানে চারটি থানা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে আরও চারটি থানা স্থাপনের মাধ্যমে এ সংখ্যা আটটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএমপি কমিশনার মো. আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বান্দ রোডে বিএমপির নিজস্ব কার্যালয়ে সংস্থাটির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
বিএমপি কমিশনার বলেন, নগরবাসীর কাছে পুলিশি সেবা আরও সহজলভ্য করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে নতুন চারটি থানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মহানগরে পুলিশের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক দ্রুত সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। দীর্ঘ দুই দশক ধরে মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে আসছে সংস্থাটি। বর্তমানে চারটি থানার মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ মহানগরে জনসংখ্যা, যানবাহন ও নাগরিক চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে পুলিশের দায়িত্বও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে থানা বাড়ানোর পরিকল্পনাকে নগরীর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তবে নতুন চারটি থানা কোথায় স্থাপন করা হবে, কবে নাগাদ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর জন্য কী পরিমাণ জনবল ও অবকাঠামো প্রয়োজন হবে—সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার দুপুরে বিএমপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পরিবর্তিত নগর বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে নগরবাসীর সহযোগিতাও জরুরি।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো, অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সহজ করা এবং অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন থানা স্থাপনের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সুফল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল, পরিবহন, কার্যালয় ও অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বরিশাল মহানগরে থানার সংখ্যা চার থেকে আটটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নগর পুলিশের সেবা সম্প্রসারণের একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এখন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সময়সূচি, নতুন থানার অবস্থান এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নগরবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন