প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রতিটি সকাল যেন মানুষের জন্য নতুন এক সংগ্রামের চিত্র। একদিকে ভারী বইয়ের ব্যাগ নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে ছুটছেন, অন্যদিকে জীবিকার তাগিদে বের হওয়া হাজারো খেটে খাওয়া মানুষ। কিন্তু সকলের পথেই এসে যোগ হয় একই দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মুখোমুখি। এটি কোনো দুর্গম পাহাড়ের গল্প নয়, বরং পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুরা গ্রামের ওপর দিয়ে ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দৈনিক চিত্র।
প্রতিদিন সকালে এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করেন ভাণ্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬৮ নম্বর উচ্চ বিদ্যালয়, ভাণ্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন সিনিয়র কামিল মাদরাসা, ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা কলেজ এবং থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী। পাশাপাশি সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ হাজারো মানুষও প্রতিদিন এই সড়কটি ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটি বিভিন্ন জায়গায় বহু বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এ সড়কটি আর চলাচলের উপযোগী থাকে না; হয়ে পড়ে এক হাঁটু কাদা ও জল জমে থাকা জায়গা। তখন সড়কটির চলাচলের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায়। রিকশা, ভ্যানসহ ছোট যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। কখনো যানবাহন উল্টে যাচ্ছে, আবার কখনো গর্তে আটকে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
এ ছাড়াও, সড়কটি ব্যবহারকারী অসুস্থ রোগীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়ার সময় ভাঙাচোরা সড়কের প্রতিটি ঝাঁকুনি যেন রোগীর কষ্টকে বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে রিকশা ও ভ্যানচালকদের প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মাশুল গুনতে হচ্ছে।
বিশেষ করে বৃষ্টির দিনের সময়ে শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠুর ভোগান্তি বেড়ে যায়। সকালে সুন্দর পোশাকে স্কুলে বের হলেও কাদা-পানিতে অনেকের জামাকাপড় নোংরা হয়ে যায় এবং বই-খাতা ভিজে যায়। ফলে কাদামাখা ও ভেজা পোশাকে তাদের ক্লাস করতে হয়।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মমিতা আক্ষেপ করে বলেন, "সকালে সুন্দর করে ইউনিফর্ম পরে স্কুলে বের হই। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা-পানিতে গর্ত দেখা যায় না। প্রায়ই পিছলে পড়ে জামাকাপড় নষ্ট হয়, বই-খাতাও ভিজে যায়। ভেজা ও কাদামাখা কাপড়ে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়।"
অভিভাবক আল আমিন মুন্সি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলছেন, "সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি। রিকশায় উঠলেও মনে হয়, এই বুঝি উল্টে গেলাম। এটা শুধু একটি রাস্তার সমস্যা নয়, আমাদের পুরো এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কারণ।"
রিকশাচালক কালাম হাওলাদার বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে গেলে রিকশার পার্টস ভাইঙ্গা যায়। চাকা গর্তে পড়ে কাইত হয়ে যায়। সারাদিন যে কয় টাকা কামাই করি, তার অর্ধেকের বেশি চইলা যায় রিকশা ঠিক করতে।"
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. হাসিবুল হাসান জানিয়েছেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পৌর প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার প্রকৌশলী গাজী নজরুল ইসলাম জানান, সড়কটির সংস্কার কাজের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দপ্তরিক প্রক্রিয়ায় সময় লাগলেও মানুষের দুর্ভোগ কি থেমে থাকবে? কাদাপানিতে আটকে যাওয়া হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন তো অপেক্ষা করতে পারে না। তাই ভাণ্ডারিয়াবাসীর প্রত্যাশা, কাগজপত্র ও অনুমোদনের ফাইল দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে। সংস্কারের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক রূপ, আর হাজারো মানুষ ও শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের চলাচল মুক্ত হবে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও আতঙ্ক থেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন