প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনে সউদী আরবের যুদ্ধ এবং দেশটিতে ইরানপন্থী হুথি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হামলার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংঘাতের ফলে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সউদির জ্বালানি স্থাপনা, বিশেষ করে বিমানবন্দরগুলো।
শনিবার ও রবিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং সর্বশেষ দাম্মাম বিমানবন্দর ও দুটি তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে সউদি সামরিক মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশটি ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে ১শ’ ৩৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠী বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং পশ্চিম উপকূলের ক্রমবর্ধমান অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কার্যক্রমের ফলে লোহিত সাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে ড্রোন হামলায় সউদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে দেশটির তেল রপ্তানি ব্যাহত হয় এবং জ্বালানিবাজারে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। রিয়াদ কয়েক সপ্তাহ ধরে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক মিত্র খুঁজছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্রিটেন সউদি যুদ্ধবিমানে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে, দেশটির ইয়ানবু তেল স্থাপনা রক্ষায় সেনা, রাডার ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহের পরিকল্পনা ঘোষণা করে ফ্রান্স।
তবে, সম্প্রতি আমেরিকা হুথিদের বিরুদ্ধে সউদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এক গবেষণায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওসামাহ আল-রাওয়ানি উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সফল সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা অনিশ্চিত। তিনি বলেন, "যুদ্ধের ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকলে রিয়াদ সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে পারে।"
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক ফ্রিদরিখ এবার্ত ফাউন্ডেশনের শান্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মার্কাস স্নাইডার ডয়চে ভেলেকে জানান, "হুথিদের নির্মূল করতে স্থলবাহিনী প্রয়োজন হবে। কিন্তু এ ধরনের যুদ্ধে, বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে, সউদি আরবের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।"
তিনি আরও বলেন, "ইয়েমেনে হুথিরা শক্তভাবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলেছে এবং তারা বড় ধরনের আঘাত সামলে ওঠার সক্ষমতা রাখে। সর্বোপরি, সউদি আরবের ভিশন-২০৩০ সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। কিন্তু সেই স্থিতিশীলতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও দূরে সরে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন