প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে একটি পর্যটন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও, দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্ব পর্যটন দিবসের সূচনা লগ্নে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। পর্যটকদের এই উপস্থিতিতে সৈকতজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন, পর্যটন দিবসের শুরুতেই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন চলতি পর্যটন মৌসুমের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা প্রদান করছে। তাদের প্রত্যাশা, মৌসুমের শুরুটা ভালো হওয়ায় পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পুরো পর্যটন মৌসুম জমজমাট হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, বিশ্ব পর্যটন দিবসে পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে কিছু অস্বস্তিকর দৃশ্য দেখা গেছে। যত্রতত্র গরু-ঘোড়া ঘোরাফেরা, টুকাই ও ভিক্ষুকদের উৎপাতের কারণে অনেক পর্যটককে বিরক্ত ও অস্বস্তিতে পড়তে দেখা গেছে। পর্যটকদের অভিযোগ, বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রের সৈকতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি পর্যটনবান্ধব পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তারা সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
পর্যটকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে এ ধরনের দৃশ্য মোটেই কাম্য নয়। বিশেষ করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে সৈকতে গরু-ঘোড়ার অবাধ বিচরণ এবং টুকাইদের উৎপাত পর্যটনবান্ধব পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তারা এ বিষয়টিকে সৈকত ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা হিসেবেও দেখছেন।
পর্যটকরা বলেছেন, সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং গরু-ঘোড়ার অবাধ বিচরণ ও টুকাইদের উৎপাত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পর্যটক ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরির নজরে আনা হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পর্যটন শিল্পকে ঘিরে কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিষ্ঠান। এ খাতকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন