প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবাধিকারকর্মীরা দাবি জানিয়েছেন যে, গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা উচিত।
রাজশাহী মহানগরীর অলোকার মোড়ে চেম্বার অব কমার্সের সামনে রবিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার।
মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন অধিকার’র রাজশাহী সমন্বয়ক ও রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সহসভাপতি সাংবাদিক মঈন উদ্দিন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক ও কবি সোহেল মাহবুব, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি, মানবাধিকারকর্মী ও খোলা কাগজ স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মাসুদ রানা রাব্বানী, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক হুজাইফা, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মানবাধিকারকর্মী নুরুল আলমসহ শতাধিক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক এম শামিম আক্তার।
অধিকার’র পক্ষ থেকে গুম থেকে ফিরে আসা আল আমিন হোসেন সংগঠনটির বিবৃতি পাঠ করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকে, তবে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কারণ গুমের ঘটনায় কোন বাহিনী জড়িত ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। রাজনৈতিকভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহারের ইতিহাসও রয়েছে। তাই, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া জরুরি।
অধিকার’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাধারণ নাগরিকদের গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে অভিযুক্ত কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী নিজে তদন্ত করতে না পারলেও সরকার অন্য কোনো বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্তভার দিতে পারবে। এ ব্যবস্থায়ও তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায় বলে অধিকার মনে করে।
সংগঠনটি আরও জানায়, তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারকে অভিযোগ দায়ের থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
মানববন্ধনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নির্যাতন, মিথ্যা সাক্ষ্য বা জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হওয়া মামলা ও সাজা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচি থেকে অধিকার’র পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবর্তে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করে তা আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা; গুমের শিকার হয়ে এখনও ফিরে না আসা ব্যক্তিদের স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত সুযোগ সৃষ্টি করা; এবং গুমের পর ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ মিথ্যা সাক্ষ্য, নির্যাতন বা জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দেওয়া সাজা ও মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা করা।#
--
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন