প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর পর ঢাকায় নেয়ার পথেই মারা গেছেন মেজো মেয়ে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা সন্দেহভাজন ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয়। এভাবে, এই নৃশংস ঘটনাটির মৃতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের ধানহাটা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মা শাহীনুর বেগম (৩৫), বড় মেয়ে সায়মা (২১), মেজো মেয়ে ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা (১৩)। গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার সন্দেহভাজন অভিযুক্ত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন। নিহতদের যারা আগে থেকেই চিনতেন। পুলিশ ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, শাহীনুর বেগমের আদি বাড়ি কুমিল্লার হোমনা থানার লটিয়া গ্রামে। ২০১৯ সালের দিকে তার স্বামী, যিনি হাঁড়ি-পাতিল ব্যবসায়ী ছিলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে শাহীনুর তার তিন মেয়ে ও ছেলে সিফাতকে (১৬) নিয়ে ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন। সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদারও বছরখানেক আগে একই ভবনে নীলেজ বাস করেছিলেন। ঘটনায়, শাহীনুরের ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তারা জানালার মাধ্যমে ঘরের ভেতরে সবাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তখন অন্তর মজুমদার নামে ওই যুবক পালাতে চাইলে, তার শরীরের রক্তের দাগ দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তরকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এদিকে, পুলিশ সহযোগিতায় স্থানীয়রা শাহীনুর বেগম এবং তার বড় ও ছোট মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। গুরুতর আহত মেজো মেয়ে ইকরাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে, ঢাকায় নেয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় ইকরার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৬ বছর বয়সী কিশোর সিফাত। সিফাত পাশের একটি দোকানের কর্মচারী। সে জানায়, ঘটনার সময় সে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার, ডিবি এবং সিআইডি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেছেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ড কেন ঘটেছে সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন