প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৬ জুন, ২০২৬: বরিশালের বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই নেতাকে পরে ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে আর জড়াবেন না মর্মে মুচলেকা দেওয়ার পর মুক্তি প্রদান করা হয়। এই ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার রাতে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা, একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালু ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. জহিরুল ইসলামের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছিল, এমনটি জানা গেছে।
সোমবার (১৫ জুন) রাত ৮টার দিকে জহিরুল ইসলাম টাকা দেওয়ার জন্য জাকির মোল্লাকে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় যেতে বলেন। যখন নির্ধারিত সময়ে জাকির মোল্লা তার সহযোগী চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত কিছু স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ধরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তেজিত জনতা তখন জাকির মোল্লা এবং তার সহযোগীকে গণপিটুনি দেয় এবং তাদের আটকে রাখে। পরবর্তীকালে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ওই দুই বিএনপি নেতাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন যে, জাকির মোল্লার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অন্যান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে টাকা চাঁদা দাবি, খালের মাটি বিক্রি, সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
তবে জাকির মোল্লা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনও চাঁদা দাবি করিনি। আমি বালু ব্যবসা নিয়ে একসঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
এদিকে, চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কখনও চাঁদাবাজি কিংবা চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেয় না। যদি দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ এই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি, তাই ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে চাঁদাবাজির কোনও অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন