প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতির মধ্যে কেটে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার তিস্তাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেও, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া ঘোষণাও পূর্ণতা পায়নি। এবার বিএনপি সরকারও বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এবারও কি প্রতিশ্রুতিতেই আটকে থাকবে তিস্তার ভবিষ্যৎ? অধিকারকর্মীরা উল্লেখ করছেন, কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।
তিস্তা কেবল একটি নদী নয়, বরং উত্তরের দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও অর্থনীতির সঙ্গে এর অস্তিত্ব জড়িত। নদীপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার নানামুখী সংকট থেকে মুক্তির জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তিস্তাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার ঘোষণা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও আটকে যায় প্রতিশ্রুতিতেই।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তখন বলেছিলেন, ‘১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। এটি ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছরে সেচ, নদীভাঙন রোধ এবং স্থায়ী বাঁধ—এই তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে।’
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারও আশার কথা শুনিয়েছেন নীতিনির্ধারকেরা। ফলে নতুন স্বপ্ন বুনছেন তিস্তা অববাহিকার মানুষ। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই তৈরি হবে ডিপিপি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে এবং শত বছর ধরে যেন তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনার সুফল পায়, সেভাবেই ডিপিপি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য পানি নিয়ে যেসব দেশ কাজ করে, তাদের সহযোগিতা নেওয়ারও চেষ্টা করছি।’
তিস্তা নিয়ে প্রতিশ্রুতির অভাব নেই, তবে দৃশ্যমান বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। তাই উত্তরের মানুষের প্রত্যাশা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর নতুন সময়সীমা নয়, তাঁরা চান মাঠপর্যায়ে কাজের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ।
তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের রংপুরের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, ‘এই সরকারও বলেছে তারা নিজের টাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তাই যদি হয়, তাহলে একটা রোডম্যাপ দিয়ে একনেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে কাজ শুরু করা উচিত। তা না হলে মানুষের আশাভঙ্গের যন্ত্রণা বিক্ষোভে রূপ নেবে।’
তিস্তা অববাহিকার দুই কোটি মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক দ্রুত, এখন সেই অপেক্ষায় নদীপাড়ের মানুষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন