প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজারবাইজানের স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্য এশিয়ার এই দেশে সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি কার্যকর করার লক্ষ্যে নতুন পোশাকবিধি প্রণয়ন করেছে। যদিও সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবুও বেশ কিছু স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাকবিধিতে সংশোধনী অনুমোদন করে। সরকারের মতে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক নিশ্চিত করা। তবে বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী বাকুসহ বিভিন্ন স্থানে হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই ধরনের বিধিনিষেধ শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও আরোপিত হয়েছে।
শিক্ষক জাহরা হাসানোভা আল-জাজিরাকে বলেন, স্কুলে হিজাব পরে আসা নিষিদ্ধ বলে তাকে জানানো হয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তে কষ্ট পেয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, "হিজাব পরা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।" ভবিষ্যতে যদি এটি খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা নিজের ইচ্ছাতেই নেওয়া উচিত।
দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম। আজারবাইজানের সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। নতুন পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখার যুক্তি এবং হিজাব পরার স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার—দুটি বিষয়ই সামনে এসেছে।
এদিকে, নতুন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কারাবন্দি সাংবাদিক পোলাদ আসলানোভ অনশন শুরু করেছেন। ২০২০ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার স্ত্রী গুলমিরা আসলানোভা ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় জানিয়েছেন, সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে আসলানোভ অনশনকে নিজের প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
দেশটিতে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিঘ্ন ঘটার খবরও পাওয়া গেছে। তবে ওপেন অবজারভেটরি অব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্স এবং নেটব্লকসের তথ্য দিয়ে ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের খবর নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।
আজারবাইজানের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ প্রতিবেশী তুরস্কেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করেন প্রতিবাদকারীরা। তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং বাকুর কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কেউ কেউ এ পরিস্থিতির সঙ্গে তুরস্কের ১৯৯৭ সালের ‘উত্তরাধুনিক অভ্যুত্থান’-পরবর্তী সময়ে হিজাব পরা নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও সরকারি চাকরিতে কাজের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধের তুলনা করেছেন।
বিক্ষোভের প্রসঙ্গে সরাসরি তুরস্কের নাম উল্লেখ না করলেও, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ দেশটির প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা করেছেন। ক্ষমতাসীন নিউ আজারবাইজান পার্টির কংগ্রেসে তিনি বলেছেন, "আমাদের জীবনযাপনের ধরনে হস্তক্ষেপ করবেন না।" তবে এ মন্তব্যের বিষয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, মুসলিম নারীরা ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। যদিও তিনি সরাসরি আজারবাইজানের নাম উল্লেখ করেননি, তার বক্তব্যকে হিজাব ও ধর্মীয় পোশাক নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন