প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন পুরোপুরি পানির নিচে ডুবে গেছে। এর ফলে গত দেড় মাস ধরে ওই ঘাটে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কেও পানি উঠে যাওয়ায় যাত্রীদের ওঠানামা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচেছ। এর ফলে ফেরি এবং লঞ্চ উভয় সেবা ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে বিকল্প হিসেবে ২, ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট ব্যবহার করে যানবাহন পারাপার চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। তবে বৃষ্টির সময়, বিশেষ করে ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় র্যাম্প ও সংযোগ সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, যতটা সম্ভব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে যানবাহন ওঠানামা। ফলে ভারী যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং চালকদের অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে পারাপার করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বালুভর্তি বস্তা ফেলে চলাচলের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৫ নম্বর ফেরিঘাটের লো-ওয়াটার পন্টুন পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে। এই কারণে ঘাটটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং সেখানে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ২, ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার অব্যাহত থাকলেও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় অপেক্ষার সময়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া অঞ্চলের এজিএম আব্দুস সালাম বলেন, “পানি বৃদ্ধির কারণে ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন ডুবে গেছে। এ কারণে ওই ঘাটে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় লো-ওয়াটার, মিড-ওয়াটার ও হাই-ওয়াটার এই তিন ধরনের ফেরিঘাট রয়েছে। ৫ নম্বর ফেরিঘাটটি লো-ওয়াটার হওয়ায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পন্টুন ডুবে যায়। এ কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে। তবে বিকল্প ঘাট ব্যবহার করায় যানবাহন পারাপারে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।”
যদিও চালক ও যাত্রীরা জানিয়েছেন, বিকল্প ঘাট দিয়ে পারাপার চললেও বৃষ্টির সময় ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামা যে রকম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, তাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি হয়। একই সঙ্গে লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কে পানি উঠায় যাত্রীদের নানাভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা এখন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে পদ্মা নদীর পানি যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। পানি কমে পন্টুন সচল হলে ৫ নম্বর ফেরিঘাটে পুনরায় যানবাহন ওঠানামা পুনরারম্ভ হবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন