প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শুক্রবার ভোরে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের নিকটে ৭.৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে। তাঁর পরবর্তী খবর অনুসারে, এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দুইজন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ভূমিকম্প চলাকালীন কিছু এলাকায় ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কিছু ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের উপরে সুনামি সতর্কাতা কিছু সময়ের জন্য জারি ছিল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর ফলে ভূমিকম্পটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশর এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিওতে ভবন ধ্বসে পড়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। নাগেওকেও অঞ্চলের এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থার কাছে বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি বাজারে ছিলেন। তার ভাষায়, 'কম্পন ছিল খুব শক্তিশালী।' তিনি জানান, সৌভাগ্যক্রমে তারা বাড়ির বাইরে ছিলেন। আতঙ্কিত মানুষেরা নিরাপদ স্থানের দিকে ছোটাছুটি করছেন এবং অনেকে পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছিলেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সবাই নিরাপদে রয়েছে। একটি হাসপাতালের ৩১ বছর বয়সী কর্মী বলেন, ভূমিকম্প শুরু হলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। রোগীরাও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি এতই শক্তিশালী ছিল যে, হাসপাতালের কিছু দেয়ালে ফাটল দেখা যায়। পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের সিক্কা অঞ্চল থেকে এক বাসিন্দা জানান, সেখানে বিভিন্ন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাউমেরে বন্দরের অপেক্ষাকক্ষের একটি অংশও ধসে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভূমিকম্পের পর, ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (BMKG) সুনামির বিষয়ে সতর্কতা জারি করে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা (BNPB)-এর কর্মকর্তা আবদুল মুহারি ফ্লোরেসের উত্তর উপকূল এবং দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের কাছে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদেরকে সমুদ্রতীর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে বা ১০ মিটার উঁচু পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিলেন।
তবে পরে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯২ সালে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ মারা গিয়েছিল। ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া একটি। এদেশটি ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার'-এ অবস্থিত। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ প্রচুর। ২০০৪ সালের ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ছিল ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ। সুমাত্রার উপকূলের কাছে ঘটনার পর বিশাল সুনামি আঘাত হানে। এতে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতে প্রাণ হারান ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। ২০১৮ সালে লম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধারাবাহিক কম্পনে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন