প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের জনপ্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে।
তিনি উল্লেখ করেন, পেশাদার, দক্ষ এবং যোগ্যতাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস গড়ে তোলার জন্য জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।
রাজধানীতে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) কর্তৃক আয়োজিত ‘ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ইন অ্যা কমপ্লেক্স গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট-পার্সপেক্টিভস অন জাপান’স ওডিএ অ্যান্ড ফিউচার পার্টনারশিপস’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা জাপান-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন সহযোগিতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি নাকানিশি।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের একটি শক্ত ভিত্তি রয়েছে। জনপ্রশাসন সংস্কার এবং সিভিল সার্ভিসের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাইকার সহযোগিতা প্রশংসনীয়।
জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই দুই দেশের অংশীদারিত্বের ধরন পরিবর্তন করা প্রয়োজন। প্রথাগত সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন ব্যবসা, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং স্টার্টআপ খাতের উন্নয়নে যৌথভাবে জোর দিতে হবে।
ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ে এমন অংশীদারিত্ব প্রয়োজন যেখানে জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ থাকবে। সুশাসন, টেকসই অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে পেরে জাপান গর্বিত।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক হিরোশি নাকানিশি উল্লেখ করেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কারণে বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগিতার ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। এই নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও জাপানকে পারস্পরিক সহযোগিতার কৌশল পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
পরবর্তীতে জাইকা হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশনস স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল রায়ুতারো মুরোতানির সঞ্চালনায় এক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম আলী রেজা, অধ্যাপক হিরোশি নাকানিশি এবং জুনকো তাকাহাশি।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা যৌথ উদ্যোগ, জ্ঞান বিনিময়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন